সংস্কারের অভাবে বেহাল দশা কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গোয়ালমারী ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কের। বিশেষ করে ইউনিয়নের ঝাউতলী ও লামছড়ি এলাকার মানুষকে মাটির সড়কে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঝাউতলী নাগবাড়ি থেকে লামছড়ি পর্যন্ত বেহাল কাঁচা সড়কটি পাকা করার জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকাবাসী দাবি জানিয়ে এলেও এ ব্যাপারে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্টদের।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে মাটির রাস্তাটি মেরামত করার পর আর সংস্কার করা হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা মাটিতে একাকার হয়ে যায় এ মাটির রাস্তা। স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী, রোগী এবং জরুরি যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঝাউতলী, লামছড়িসহ আশপাশের গ্রামের লোকজনের দুর্ভোগ লাগবে রাস্তাটি পাকা করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোয়ালমারী ইউনিয়নের ঝাউতলী নাথবাড়ী থেকে লামছড়ি পর্যন্ত কাঁচা সড়কটির অধিকাংশ জায়গায়ই ভাঙা ও গর্ত হয়ে আছে। হেঁটে চলাচল করা গেলেও যানবাহন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী সড়কটি।
ঝাউতলী ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা মোজাম্মেল ভূঁইয়া বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলে কাদা মাটিতে একাকার হয়ে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে যায় রাস্তাটি।’
একই গ্রামের ষাটোর্ধ্ব রুহুল আমিন বলেন, ‘বর্ষাকালে অনেক জায়গায় রাস্তাটি ডুবে যায়, আর বৃষ্টি হলে রাস্তাটির এমন অবস্থা হয় যে, ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়াসহ মুসল্লিদের মসজিদে যাওয়াই বন্ধ হয়ে যায়।’
লামছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা নাসরিন বলেন, ‘রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে আমাদের বিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীর উপস্থিতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘মাটির এই রাস্তাটি বর্ষাকালে এলেই চলাচলে অনুপযোগী হয়ে যায়। এত বড় রাস্তা আমি হয়তো মাটি দিয়ে মেরামত করতে পারব, কিন্তু বৃষ্টি হলে তা আবার কাদামাটি হয়ে যাবে। রাস্তাটি পাকা হওয়া জরুরি।’
গোয়ালমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিনুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সমস্যার বিষয়টি আমাকে জানালে মাসিক সভায় আলোচনার মাধ্যমে দুর্ভোগ লাগবের ব্যবস্থা করব।’
