জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে ‘যৌন সম্পর্ক’ গড়ে তোলার অভিযোগ তুলে পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জনিকে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্তের দাবি করেছেন শিক্ষকদের একটি অংশ।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন বিএনপি-বামপন্থি শিক্ষকরা।
এদিন একই দাবিতে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উপাচার্য বরাবর একটি আবেদন দেওয়া হয়। যার অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল ও শিক্ষক সমিতির কাছেও পাঠানো হয়েছে। এতে ২১ জন শিক্ষকের সই ছিল।
সম্প্রতি জনির বেশকিছু 'আপত্তিকর' ছবি ও মেসেঞ্জার আলাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। এদিকে ফাঁস হওয়া একটি অডিও ক্লিপে একজনকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করাতে বলতে শোনা যায় তাকে। জনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক থাকা ছাত্রীদের একজন কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এই নিয়োগে জনির প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বেও রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের জন্য স্ট্র্যাকচারাল কমিটি গঠন, অভিযুক্তকে সব পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তদন্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি প্রদানের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে স্ট্র্যাকচারাল কমিটি গঠন করা না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মানস চৌধুরী বলেন, ‘নিজের পদ ব্যবহার করে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন এবং শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে প্রভাব বিস্তারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে জনির বিরুদ্ধে। এছাড়াও আরেক ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার পর গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য করেছে সে, এমন অভিযোগও উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি অনুযায়ী এগুলো নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণজনিত অপরাধ।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক কামরুল আহসান, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক সোহেল রানা, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান চয়ন, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আনিছা পারভীন, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ফাহিমা আল ফারাবি প্রমুখ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান জনি বলেন, ‘এসব তথ্য মিথ্যা ও বানোয়াট। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সাথে পরার্মশ করেছি অচিরেই এদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
