নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গড়ে ওঠা জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৪০ বিদেশি কোম্পানি বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। এসব কোম্পানি সেখানে ১৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। বাংলাদেশের টাকার মূল্যমানে যা ১৫ হাজার কোটি টাকা বা তারও বেশি। বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত ‘বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল)’ আগামী মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন।
গতকাল রবিবার নগরীর বেজা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারো কাউয়াচি, জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক সালেহ আহমেদ, বেজার নির্বাহী সদস্য ইরফান শরীফ, আবদুল আজীম চৌধুরীসহ অন্যরা।
শেখ ইউসফ হারুন বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারী এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের উন্নয়ন কাজ স্থবির হয়ে পড়লেও বেজা তার উন্নয়ন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী গত ২০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে প্রথমবারের মতো ৪টি শিল্পের বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন, যার মধ্যে ছিল ভারতের এশিয়ান পেইন্টস, জাপানের নিপ্পন স্টিল, বাংলাদেশ ম্যাকডোনাল্ড ও টি কে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সামুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
তিনি জানান, পুরো অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে সেখানে ১৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হবে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকা। সেখানে এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলেও জানান তিনি।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, সবমিলিয়ে ৪০টি কোম্পানি সেখানে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। যারমধ্যে ৩০টি কোম্পানি জাপানের। বাকি দশটি অন্য দেশের। তিনি বলেন, জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানিজ বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প নির্মাণকাজ শুরু করেছে বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার, চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে জার্মান কোম্পানি রুডলফের সঙ্গে। উদ্বোধনের দিনেই আগামী ৬ ডিসেম্বর এ জোনে দুটি জাপানিজ বিনিয়োগকারীর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের পথ চলা শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর ২০১৪ সালে জাপান সফরের মাধ্যমে। ২০১৫ সালে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের বাংলাদেশ সফরের সময় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। ২০১৬ সালে জাইকা বাংলাদেশে একটি জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ হাতে নেয় এবং একই বছর জাপান সরকার বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনকে ডেভেলপার হিসেবে নিয়োগ করার জন্য সুপারিশ করে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বেজা চেয়ারম্যান বলেন, জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের সময় আইএমইডির দেওয়া সুপারিশ অনুযায়ী বর্ষার আগেই খালগুলো খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে রেড ক্যাটাগরির কোনো শিল্প অনুমোদন পাবে না। এতে সিইটিপি বানাবে সরকার, আর বিনিয়োগকারী কোম্পানিকে ইটিপি নিশ্চিত করতে হবে।
বেজা ২০১৯ সালে প্রস্তাাবিত এলাকায় জমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়ন কাজ শুরু করে। জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৫০০ একর ভূমি উন্নয়ন কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে সংযোগ সড়ক, নিশ্চিত করা হয়েছে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। নির্মাণ শুরু হয়েছে অভ্যন্তরীণ সড়ক, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এ পর্যন্ত কোম্পানির অনুকূলে ১৮০ একর উন্নত জমি বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
