‘গ্রহণযোগ্য’ বিকল্পের প্রস্তাব না পেলে নয়াপল্টন

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:১৯ এএম

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের সময় ঘনিয়ে এলেও সমাবেশের স্থান নিয়ে অচলাবস্থা কাটেনি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) চায় বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করুক। সেখানেই তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিএনপি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাবে না।

এ অবস্থায় জটিলতা নিরসনে গতকাল রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডিএমপির কাছে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের বাইরে সমাবেশের জন্য ‘গ্রহণযোগ্য’ বিকল্প স্থান চেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘ঢাকায় বিএনপি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে চায়। সমাবেশে যদি কোনো নাশকতা হয়, সেটা সরকার করবে। এর দায়ও সরকারকেই বহন করতে হবে।’

বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী গত রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সমাবেশের স্থান নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি। বিকল্প স্থান না পেলে নয়াপল্টনেই সমাবেশ করব আমরা।’

সমাবেশস্থল চূড়ান্ত না হলেও যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দুপুর থেকেই সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানে অবস্থান নিয়ে টুকুর মুক্তি দাবি করেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। অথচ ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিদিনই দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

রিজভীর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ হওয়ার পর নেতাকর্মীরা সেখানেই অবস্থান করেন। সেখানেই তাদের দুপুরের খাবার খেতে দেখা গেছে। রাতে নেতাকর্মীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অবস্থান নিয়েছেন রিজভী, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। চতুর্থ তলায় যুবদল অফিসে অবস্থান করছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি গোলাম মাওলা শাহীন, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনামুলসহ যুবদলের নেতাকর্মীরা।

তবে রাত ৯টার দিকে নেতাকর্মীদের কার্যালয় ও কার্যালয়ের সামনে থেকে আস্তে আস্তে সরে যেতে দেখা গেছে। পোশাকধারী পুলিশও সরে গেছে। তবে সাদাপোশাকে পুলিশের গোয়েন্দাদের উপস্থিতি তখন পর্যন্ত ছিল।

এদিকে, যুবদল সভাপতি টুকু গ্রেপ্তার হওয়ায় সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মামুন হামানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি। সংগঠনটির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত (সহসভাপতি) কামরুজ্জামান দুলাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

এখন থেকেই কার্যালয়ে অবস্থান নেবেন কি না জানতে চাইলে যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এমন কোনো নির্দেশনা পাইনি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশ দিলে কার্যালয়ে অবস্থান নেব।’

ডিএমপিতে বিএনপি : বিকেলে সমাবেশের স্থান, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার ফারুক হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। এই দলে ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।

বৈঠক শেষে এ্যানী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ডিএমপি কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমরা সমাবেশ করব না। নয়াপল্টনেই সমাবেশ করতে চাই। তাদের কোনো বিকল্প প্রস্তাব থাকলে আমাদের জানাতে পারে। আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করব বলেও জানিয়েছি।’

সংবাদ সম্মেলন : জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসার সামনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে যে তল্লাশিচৌকি বসানো, জঙ্গি দমনে বিশেষ অভিযানের নামে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে দাবি করে তার নিন্দা জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি খালেদা জিয়ার বাসার সামনের তল্লাশিচৌকি ও ব্যারিকেড তুলে নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিও জানান মির্জা ফখরুল।

ফখরুলের দাবি, গত ৩০ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির ১ হাজার ৩১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইশরাকের গাড়িবহরে হামলা : ঢাকার গণসমাবেশ সফল করতে গতকাল দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে লিফলেট বিতরণ করতে গেলে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইসলামপুরে লিফলেট বিতরণ শেষে কর্মী-সমর্থকদের বিদায় দেওয়ার পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ইশরাকের সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন।’

সরকারি কর্মকর্তারা বড় আ.লীগার হয়ে গেছেন : বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো এ দেশের সরকারি কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় আওয়ামী লীগার হয়ে গেছেন।’

ফখরুল বলেন, ‘বর্তমানে কিছু কথা বলতে গেলেই সরকার বলে সংবিধান অনুযায়ী ভোট হবে। কোন সংবিধান? যে সংবিধান বারবার পরিবর্তন করে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছিলেন সেই সংবিধান! সেই সংবিধান অনুযায়ী কোনো কিছু হবে বলে আমরা মনে করি না। জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান তৈরি করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত