মরক্কোর মরূদ্যান স্পেনের কান্না

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৪৫ এএম

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে মরক্কো। তাও আবার সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে হারিয়ে। গতকাল আল বাইয়ার স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়। টাইব্রেকারে মরক্কো ৩-০-তে হারিয়েছে স্পেনকে। স্প্যানিশরা প্রথম তিন শটে সফল হতে পারেনি। আর তাতেই মরূদ্যান হয়েছে মরক্কোর, কেঁদেছে স্পেন। মরক্কোর সাবিরি টাইব্রেকারে প্রথম শটেই লক্ষ্যভেদ করেন। স্পেনের প্রথম শট নিতে আসেন পাবলো সারাবিয়া। তার ডানদিকে নেওয়া শটে বল লাগে পোস্টে। মরক্কোর দ্বিতীয় শটে হাকিম জিয়েচ লক্ষ্যভেদ করেন। ঠা-া মাথায় জিয়েচ শট নেন মাঝ বরাবর। স্প্যানিশ গোলকিপার উনাই সিমন ঝাঁপ দেন ডানদিকে। মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনু স্পেনের কার্লোস সোলেরের পরের শটটি রুখে দেন ডানদিকে ঝাঁপিয়ে। তবে মরক্কোর তৃতীয় শটটা মিস করেন বেনুন। এরপর আবারও মরক্কো গোলকিপারের চমক। সার্জিও বুসকেটসের শটও রুখে দেন! বুসকেটস শট নিয়েছিলেন ডানদিকে। নিজেদের চতুর্থ শটটি জালে পাঠিয়ে মরক্কোকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন রিয়াল মাদ্রিদে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আশরাফ হাকিমি।

মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনু খেলেন স্পেনেরই ক্লাব সেভিয়াতে। গেল মৌসুমে লা লিগার সেরা গোলকিপার হয়েছিলেন তিনি। মরক্কোর উইনিং শট নেওয়া রাইটব্যাক হাকিমির ফুটবলের হাতেখড়ি স্পেনে। রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে। ইনজুরির কারণে মরক্কোর ডিফেন্ডার আমরাবাতের খেলা নিয়ে ছিল সংশয়। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমি আবেগে আপ্লুত। প্রশ্ন ছিল আমি ম্যাচটি খেলতে পারব কি না। রাত ৩টা পর্যন্ত ফিজিওর সঙ্গে ছিলাম। ম্যাচের আগে ইনজেকশনও নিয়েছি। আমি সতীর্থদের এবং নিজের দেশকে ছেড়ে যেতে পারি না।’

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে চারবার টাইব্রেকারে হারল স্পেন। মোট পাঁচবার বিশ্বকাপে টাইব্রেকের মুখে পড়ে স্পেন। ২০০৬ সালে ইউক্রেনের বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টাইব্রেকারে একটি গোলও করতে পারেনি স্পেন। ২০১৮ বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে রাশিয়ার কাছে হেরেছিল লা রোজারা।

ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের ৫ মিনিটের মাথায় সফেয়ান আমরাবাতারে থ্রু পাস থেকে স্প্যানিশ গোলকিপার সিমোনকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন মরক্কোর ফরোয়ার্ড সাবিরি। বল জালে পাঠাতে পারেননি। অবশ্য অফসাইডের পতাকাও তোলা হয়েছিল। ১০৪ মিনিটের মাথায় ম্যাচের সেরা সুযোগ পেয়েছিল মরক্কো। ফরোয়ার্ড ওয়ালিদ চেদ্দিরা সিমোনকে সামনে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। দারুণ সেভ করেন স্প্যানিশ গোলকিপার। স্পেনের হতাশা বাড়ে অতিরিক্ত সময়ের শেষ শটে। সারাবিয়ার শটটি পোস্টে লাগে।

এর আগে পুরো ৯০ মিনিট দুদলই গোলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। স্পেন ১০০০-এর ওপরে পাস খেলেছে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে। কিন্তু আসল কাজটিই করতে পারেনি। ৭৭ শতাংশ সময়ে বল পায়ে রাখা স্পেনের ১৩ শটের মাত্র একটি ছিল লক্ষ্যে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত