দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের সম্পদ মূল্যায়ন নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) উদ্বৃত করে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ও চট্টগ্রামের ডিসি মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। তারা বলেছেন, ‘এ রকম অসত্য সংবাদ প্রত্যাশিত ছিল না।’
এস আলম গ্রুপকে নিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সংবাদ পড়ে আই অ্যাম সারপ্রাইজড। আমি বিস্মিত। এ ধরনের কোনো নির্দেশনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেননি। আমিও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে কোনো কথা বলিনি। কোনোভাবেই এমন অসত্য সংবাদ প্রত্যাশিত ছিল না।’
এস আলম গ্রুপকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, “এস আলম গ্রুপের সম্পদ অনুসন্ধান কর” শীর্ষক সংবাদ আমাদের নজরে এসেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের নাম জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ অসত্য ও অতিরঞ্জিত; কারণ এস আলম গ্রুপের সম্পদ খতিয়ে দেখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ থেকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সংবাদটি প্রকাশের আগে মুখ্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি ও রকম কোনো নির্দেশনা পাননি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তাঁর অধস্তনদেরও কোনো নির্দেশনা দেননি। তা সত্ত্বেও আপনার পত্রিকা মিথ্যা সংবাদটি ছেপেছে, যা খুবই শঙ্কাজনক ও অসদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মনে হয় তথাকথিত সূত্রগুলোর কল্পনা ও বক্তব্যের ভিত্তিতে ইচ্ছাকৃতভাবে সংবাদটি তৈরি করা হয়েছে। আপনার পত্রিকার এ ধরনের মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশনার আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা আশাকরি ভবিষ্যতে কোনো সংবাদ প্রকাশের সময় নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ব্যবহার করবে।’
এদিকে এস আলম গ্রুপের সম্পদের হিসাব নেওয়ার খবরটি ভিত্তিহীন ও গুজব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল বিকেলে নিজ কার্যালয়ে বসে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা মৌখিক হবার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর কিংবা ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। এটা স্রেফ (শুধুই) একটি গুজব এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির জন্য এ ধরনের নিউজ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেই তো নির্দেশনা পাইনি, তাহলে সহকারী কমিশনার ও তহশিলদারদের কীভাবে নির্দেশনা দেব? শুধু এস আলম নয়, দেশের কোনো শিল্প গ্রুপ সম্পর্কেই এমন নির্দেশনা আসেনি।’
