বাংলাদেশেও করোনা টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরীক্ষামূলকভাবে আগামী ২০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এই টিকা দেওয়া হবে। সেদিন টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোন ধরনের জটিলতা দেখা না দিলে আগামী বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে চতুর্থ ডোজ টিকা দেওয়া হবে।
গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির এ সব তথ্য তুলে ধরেন।
এ ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই চতুর্থ ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। কোনো কোনো দেশে পঞ্চম ডোজও চলছে। আমরাও চতুর্থ ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। প্রাথমিকভাবে খুবই প্রয়োজনীয় এমন জনগোষ্ঠীকে এই টিকা দেওয়া হবে। পরে অন্যরাও পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মকর্তা বলেন,চতুর্থ ডোজ হিসেবে দেওয়া হবে ফাইজারের টিকা। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। বুস্টার ডোজ নিয়েছেন, এমন ব্যক্তি চতুর্থ ডোজ নিতে পারবেন। এসএমএসের মাধ্যমে আগের দিন নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জানিয়ে দেওয়া হবে টিকা নেওয়ার কেন্দ্র। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে ঢাকার সাতটি কেন্দ্রে বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। সেগুলো হল সচিবালয় ক্লিনিক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।
চতুর্থ ডোজ টিকা দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার চার মাস পর থেকে শরীরে অ্যান্টিবডির মাত্রা কমতে থাকে। এ ছাড়া সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মকর্তা বলেন, ২ কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। চিকিৎসক, ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার, গর্ভবতী নারী, ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি, ষাট বছরের কম বয়স কিন্তু নানা ধরনের কোমর্বিডিটি আছে, তাদের টিকার আওতায় আনা হবে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা কম না।
