আবর্জনায় বন্ধ খালের মুখ অনাবাদি তিন ফসলি জমি

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:২০ এএম

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ফসলি জমির পরিমাণ ১৬ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি হয়ে পড়েছে প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমি। অনাবাদি বিস্তীর্ণ জমিতে এখন কচুরিপানা আর আগাছা। এক দশক আগেও এসব জমিতে ইরি ধানসহ বিভিন্ন রকমের শাকসবজির চাষ হতো।

উপজেলার গৌরীপুর, জিংলাতুলি, বারপাড়া, সুন্দলপুর ইউনিয়নে দেখা যায়, এক সময় এসব এলাকার জমিতে চাষাবাদ হলেও বর্তমানে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে না। জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে দেখা যায়, গোমতী ও কালাডুমুর নদীর সংযোগস্থল থেকে সুন্দলপুর সেচ প্রকল্প নামে একটি খাল গৌরীপুর, বারপাড়া, সুন্দলপুর ও গোয়ালমারী ইউনিয়ন হয়ে দাউদকান্দি গোমতী নদীতে মিশেছে। জমিগুলো এই খালের পানি দিয়েই চাষ হতো। আবার বর্ষা শেষে এই খালই পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু গত কয়েক বছর যাবৎ গোমতী নদীর সঙ্গে সংযোগ খালের মুখটি গৌরীপুর বাজারের ময়লা আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে। স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশবিদরা মানববন্ধনসহ আন্দোলন করেও খালের মুখে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে পারেননি।

পেন্নাই গ্রামের কৃষক আবদুল খালেক বলেন, বর্ষার পানি জমি থেকে সঠিক সময়ে না নামায় আমাদের জমিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো চাষবাদ করতে পারছি না। কৃষক আল আমিন ও হারুন বলেন, আমরা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করায় কয়েক বছর ধরে আমাদের জমিগুলোতে কোনো ফসল ফলাতে পারছি না।

বারপাড়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাবিহ উল্লাহ বলেন, ইছাপুর পূর্ব এবং পশ্চিম পাশের খালগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখানকার জমিগুলো অনাবাদি থাকে। অপরিকল্পিত বাড়ি নির্মাণ, পুকুর কাটা এবং খালের সংযোগস্থল বন্ধ করা খাল বন্ধ হওয়ার কারণ।

পেন্নই ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শেখ আব্দুল বাতেন বলেন, খালের মুখটি বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে তিন ফসলি জমিগুলো অনাবাদি পড়ে আছে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষি ও পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত বলেন, কালাডুমুর নদের মুখটি পরিষ্কার করে খালের পানি চলাচল রাখতে কয়েকবার মানববন্ধন করেও এর কোনো সুরাহা করতে পারিনি। খালের মুখ বন্ধ থাকায় বর্ষার পানি আসে দেরিতে, যায়ও দেরিতে। এজন্যই দাউদকান্দির বিভিন্ন এলাকার অনেক ফসলের মাঠ অনাবাদি থাকে। আর নব্য ধনী এবং বহুজাতিক কোম্পানির খপ্পরে পরে অধিক মূল্যে কৃষকের জমিও হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। আরেকদিকে, প্রবাসী পরিবার রেমিট্যান্স পেয়ে কৃষিবিমুখ হচ্ছে।

দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে অনাবাদি জমিগুলো চাষের আওতায় আনার চেষ্টা করব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিনুল হাসান বলেন, গৌরীপুর বাজারের ময়লা আবর্জনায় বন্ধ হওয়া গোমতী নদীর সঙ্গে সংযোগ খালের মুখটি সচল করতে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি আগামী সপ্তাহে এর কাজ শুরু হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত