পটুয়াখালীতে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:২১ এএম

বছর না যেতেই আবারও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে পটুয়াখালীর সাগর মোহনার গ্রাম নিজামপুর-সুুধীরপুর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি। কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের এই বেড়িবাঁধে হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে নতুন করে ভাঙন। সিডরে বিধ্বস্ত লালুয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংস্কার কিংবা মেরামত নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের রশি টানাটানিতে এক যুগের বেশি সময় ধরে বর্ষা মৌসুমে বানের জলে ভাসছে ১৭টি গ্রামের মানুষ। ভাঙনকবলিত ওইসব এলাকায় বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, সুপার সাইক্লোন সিডরে বিধ্বস্ত হয় পটুয়াখালীর মহিপুরের সাগর মোহনার গ্রাম নিজামপুর-সুুধীরপুরের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ। কয়েক দফা দ্রুত সংস্কারকাজ করা হলেও বছর না যেতেই ফি বছর বর্ষা মৌসুমে এ বাঁধ ভেঙে আবার প্লাবিত হয় অন্তত সাতটি গ্রাম। তাতে ক্ষতির শঙ্কায় পড়েছেন এসব গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। সর্বশেষ জিও টেক্সটাইল ব্যাগ দিয়ে এ ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও বছর না যেতে তাতেও দেখা দিয়েছে আবারও ভাঙন। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরিপ অনুযায়ী এরমধ্যে ৩০০ মিটার রয়েছে উচ্চ ঝঁুঁকিতে। বারবার ঝুঁকিসহ এসব গ্রামের মানুষদের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দ্রুত একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু বাস্তবে প্রকল্পটি আলোর মুখ না দেখায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

অপরদিকে, সাগর মোহনার রাবনাবাদ নদের তীরের কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া, পশরবুনিয়া এলাকার ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সিডরে বিধ্বস্ত হয়। কয়েক দফা মেরামত করা হলেও ফি বছর বর্ষা মৌসুমে আবারও তা ভাঙছে। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ১৭টি গ্রামের ২৬ হাজার মানুষ দু’দফা ভাসছেন বানের জলে। দেড় দশক ধরে এ অবস্থা চলমান থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে অনেক বসতভিটা, বাড়ি, কাঁচা-আধাপাকা সড়ক। ভেঙে গেছে সেতু-কালভার্ট। বছরের পর বছর ফসলহানি হওয়ায় এসব গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকায় পড়েছে বড় ক্ষতিকর প্রভাব।

এছাড়া, কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের বেড়িবাঁধে হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে ভাঙন। বাঁধের প্রশস্ততার অর্ধেক ইতিমধ্যে ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে আন্ধারমানিক নদে। যেকোনো সময় বাকি অর্ধেক বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। আর এমনটি হলে প্লাবিত হবে অন্তত ৬টি গ্রাম। একই উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুরের বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে বর্ষা মৌসুমে প্লাবিত হয় রাবনাবাদ নদের তীরের অন্তত ৫টি গ্রাম।

লালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বিশ্বাস তপন বলেন, পায়রা বন্দর ভাঙনকবলিত এলাকার জমি অধিগ্রহণ করায় এখানে কাজ করতে রাজি নয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। অপরদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করছে না বাঁধ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলেন, নিজামপুর-সুধীরপুর এলাকায় টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি করে প্রকল্প প্রস্তাবনা বিশ^ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শঙ্কামুক্ত হবে এসব অঞ্চল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত