সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দান করা জমিতে আ.লীগ কার্যালয়

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৪৪ এএম

কথা ছিল দান করা ১৮ শতাংশ জমিতে দাতার পিতার নামে (গিরিশ চন্দ্র বর্মন) কলেজের ছাত্রাবাস হবে। কিন্তু কলেজের ছাত্রাবাস তো দূরের কথা, প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের সেই জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়। প্রায় দুই যুগ ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা আদিতমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের জমিটি উদ্ধারে কোনো তৎপরতা নেই।

তবে আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেছেন, এটি তৎকালীন যারা আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ছিলেন, তারা বলতে পারবেন সেখানে কীভাবে অফিস করেছেন। বর্তমান কমিটি এই দখলের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। বর্তমান কমিটির কোনো নেতাকর্মী ওই কার্যালয়ে যাতায়াতও করেন না। এই সময়ে যারা দলের কার্যালয় হিসেবে দখল করে রেখেছেন তারা আওয়ামী লীগ নামধারী। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই।

জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চন্দনপাট গ্রামের দীনেশ চন্দ্র বর্মন নামের একজন দানশীল ব্যক্তি উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে ১৮ শতাংশ জমি আদিতমারী ডিগ্রি কলেজের নামে দানপত্র দলিল করে দেন। তবে জমি দাতার শর্ত হিসেবে আদিতমারী ডিগ্রি কলেজের গরিব-দুঃখী ছাত্রছাত্রীদের থাকার অসুবিধার কারণে ওই জমিতে একটি ছাত্রাবাস নির্মাণ করতে হবে। জমির তফসিলে দুটি জোতে ১৮ শতাংশ জমি দান করা হয়। সে লক্ষ্যে ওই সময়ে ছাত্রাবাসের জন্য একটি সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই কলেজ প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সামছুল ইসলাম সুরুজ সেখানে আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করেন। ২০০৩ সালে দুষ্কৃতকারীদের হাতে নিহত হওয়ার পর তার পরিবারের লোকজন দলীয় কার্যালয়ের পাশাপাশি সেখানে তিনটি দোকান  গড়ে তোলেন। বর্তমানে দলীয় কার্যালয়সহ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলো ওই পরিবারের লোকজন দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে আদিতমারী উপজেলা সদরে আদিতমারী ডিগ্রি কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে কলেজটি জাতীয়করণ হলে কলেজের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি (প্রায় চার একর জমি) সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামে ডিড অফ গিফট করে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। যেখানে ওই ১৮ শতাংশ জমিও রয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জমিদাতা দীনেশ চন্দ্র বর্মন দেশ রূপান্তর’কে বলেন, কথা তো ছিল ছাত্রাবাস করার। সেজন্যই মূলত কলেজের নামে জমিটি দান করেছিলাম।  ক্ষোভের সঙ্গেই তিনি আরও বলেন, আমার বাবা কলেজে জমি দান করার পর আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন জমিতে তো এখনো কিছুই হলো না। তিনি জীবিত অবস্থায় ছাত্রাবাস দেখে যেতে পারেননি। তার এই প্রশ্নের জবাবও আমি দিতে পারিনি। এখন তো আমার আর কিছু করার নেই যা করার কলেজ কর্তৃপক্ষই করবে।

বর্তমানে ওই কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন সামছুল ইসলাম সুরুজের ছোট ছেলে কমলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নিজেকে তৃণমূল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করে বলেন, এটি তার বাবা ২০০০ সালে নির্মাণ করেন। তখন বাবা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনিও স্বীকার করেন যে এটি কলেজের সম্পত্তি। প্রয়োজনে জমিটি লিজ নেওয়া হবে।

আদিতমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আজিজার রহমান বলেন, এটি কলেজের সম্পত্তি ছিল যা পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ডিড অফ গিফট করে দেওয়া হয়েছে। এটি আমরা দেখভালের দায়িত্বে থাকলেও এটি এখন সরকারি সম্পত্তি। আমরাও চাই এই দখলদারিত্বের অবসান হোক।

আদিতমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের সভাপতি ও আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জি. আর. সারোয়ার বলেন, এটি আপনাদের কাছে শুনে আমি কলেজ অধ্যক্ষকে ফোন করে জানতে পারি এটি কলেজের সম্পত্তি ছিল যা এখন সরকারি সম্পত্তি। আরও বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পরে বলতে পারব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত