মালয়েশিয়ায় ভূমিধসে নিহত ২১, নিখোঁজ ১৪

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:১১ এএম

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের কাছে ভূমিধসে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে একটি ক্যাম্পসাইটে এই ভূমিধস হয়। ঘটনার সময় সবাই ঘুমিয়ে ছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই দুর্যোগের পরপরই কয়েকশ উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে আবর্জনা, উপড়ে পড়া গাছ ও কাদা সরিয়ে জীবিতদের বের করে আনার চেষ্টা শুরু করেন।

দেশটির দমকল বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেলাঙ্গর রাজ্যের একটি সড়কের পাশে ক্যাম্পিং করার ব্যবস্থা থাকা একটি অর্গানিক খামারে ভূমিধসের ঘটনাটি ঘটেছে। খামারের ব্যবস্থাপক জানান, রাতে ক্যাম্পটিতে থাকার জন্য যাদের নাম নিবন্ধন করা হয়েছিল তার মধ্যে অন্তত ৩০ জন শিশু এবং ৫১ জন প্রাপ্তবয়স্ক।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রাজধানী কুয়ালালামপুরের ৫০ কিলোমিটার উত্তরে বাতাং কালি জেলার মনোরম পার্বত্য অঞ্চল গেন্টিং হাইল্যান্ডসের পাশেই দুর্যোগটি ঘটেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গেন্টিং হাইল্যান্ডস একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য।

বাতাং কালি জেলার পুলিশপ্রধান সুফিয়ান আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, নিহতরা সবাই মালয়েশীয় এবং তাদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশু আছে। তবে মালয়েশিয়ার দমকল বিভাগ জানায়, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪ শিশু আছে।

দমকল বিভাগের পরিচালক নোরাজাম খামিস জানান, ক্যাম্পসাইটটির আনুমানিক ৩০ মিটার উঁচু একটি পাহাড়ি ঢাল থেকে ভূমিধস হয়ে প্রায় এক একরের মতো এলাকা মাটিচাপা পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী তেহ লিন জুয়ান (২২) স্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে জানান, ভূমিধস যখন হয় তখন তিনি আরও ৪০ জনের সঙ্গে ক্যাম্পটিতে ছিলেন। তার এক ভাই মারা গেছেন এবং আরেকজন হাসপাতালে আছেন।

তেহ লিন জুয়ান বলেন, ‘বজ্রপাতের মতো তীব্র শব্দ শুনলাম, কিন্তু এরপরই পাথর পড়া শুরু হয়। অনুভব করলাম, তাঁবু আলগা হয়ে যাচ্ছে আর আমাদের চারপাশে মাটি এসে পড়ছে। সৌভাগ্যক্রমে আমি তাঁবু থেকে বের হয়ে নিরাপদ একটি স্থানে চলে যেতে পেরেছিলাম। আমি ও আমার মা হামাগুড়ি দিয়ে সরে এসে নিজেদের রক্ষা করেছি।’

মালয়েশিয়ার সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য সেলাঙ্গরে এর আগেও বেশ কয়েকবার ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। বন উজাড় ও পাহাড় কাটার কারণেই এসব ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। অঞ্চলটিতে এখন বর্ষাকাল চললেও বৃহস্পতিবার রাতে ভারী বৃষ্টি বা ভূমিকম্পের মতো কোনো কিছু হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত