পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি বা সবুজ কারখানার স্বীকৃতির দিক দিয়ে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে বাংলাদেশ। চলতি ডিসেম্বরে তৈরি পোশাকশিল্পের আরও দুটি প্রতিষ্ঠান সবুজ কারখানার স্বীকৃতি পেয়েছে। এতে করে দেশে পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার সংখ্যা ১৮০টিতে উন্নীত হয়েছে। তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এ তথ্য জানিয়েছে।
চলতি বছর তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের মোট ২৭ প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার সনদ পেয়েছে। তার মধ্যে চলতি মাসে নতুন যে দুটি কারখানা পরিবেশবান্ধব কারখানার সনদ পেয়েছে, সেগুলো হচ্ছে গাজীপুরের ভিক্টোরিয়া ইন্টিমেটস লিমিটেড ও ময়মনসিংহের ড্রেসডেন টেক্সটাইল লিমিটেড। দুটি প্রতিষ্ঠানই লিড গোল্ড সনদ পেয়েছে।
বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেছেন, ‘এ বছর আমাদের ১৩টি প্লাটিনাম সার্টিফায়েড ফ্যাক্টরি হয়েছে, যেটি সর্বোচ্চ। আরও ৫৫০টির বেশি কারখানা গ্রিন সার্টিফায়েডের তালিকায় ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে।
নতুন সনদ পাওয়া কোম্পানি দুটির মধ্যে গোল্ড লিড সার্টিফায়েড গ্রিন গার্মেন্টস অব বাংলাদেশ সনদ পাওয়া ভিক্টোরিয়া ইন্টিমেটস লিমিটেডের যাত্রা শুরু করে ২০১৯ সালে। গাজীপুরের শ্রীপুরের দক্ষিণ ভাংগনাটি বৈরাগিরচালায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ৬২ পয়েন্ট পেয়ে ১২ ডিসেম্বর সনদ পেয়েছে। আর ড্রেসডেন টেক্সটাইল লিমিটেড ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত। এ প্রতিষ্ঠানটি ১৩ ডিসেম্বর ৬৮ পয়েন্ট পেয়ে গোল্ড সার্টিফায়েড সনদ পেয়েছে।
তার আগের মাস নভেম্বরে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (বেক্সিমকো) ও বর্ণালি কালেকশনস লিমিটেড লিড গ্রিন ফ্যাক্টরির স্বীকৃতি পেয়েছে।
২০১১ সালে বাংলাদেশে সবুজ কারখানার সংখ্যা ছিল দুটি। এর মাত্র ১১ বছরে সবুজ কারখানার সখ্যা ১৮০টিতে উন্নীত হলো। বাংলাদেশের ৫৮টি পোশাক কারখানা প্লাটিনাম রেটিং, ১০৮টি গোল্ড রেটিং ও ১০টি সিলভার রেটিং পেয়েছে। চারটি কারখানা রেটিং না পেলেও সনদ পেয়েছে। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের পাশাপাশি শিপইয়ার্ড, জুতা ও ইলেকট্রনিক পণ্য খাতে আছে পরিবেশবান্ধব কারখানা। বাণিজ্যিক ভবনও হচ্ছে পরিবেশবান্ধব, তবে সংখ্যায় কম।
বিশে^র বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। তাদের মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)। তারা ‘লিড’ নামে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে।
