বিএনপির সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আবদুস সাত্তার দলীয় সিদ্ধান্তে পদত্যাগ করার পরদিন থেকে মাঠে সরব হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতারা। মহাজোটের শরিক হিসেবে জাপা যেমন এ আসনে বরাবরের মতো মনোনয়নের ব্যাপারে সোচ্চার; তেমনি যেকোনোভাবেই হোক এ আসনে নৌকার প্রার্থী নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগ। পুরো এলাকায় শুরু হয়েছে নির্বাচনী আমেজ।
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচন। সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন। সরাইল উপজেলায় প্রায় দুই লাখ এবং আশুগঞ্জে প্রায় এক লাখ ভোটার রয়েছে। তবে এ আসনে কে পাচ্ছেন মনোনয়ন? মহাজোট নাকি আওয়ামী লীগ এ আলোচনায় সরব ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকা।
২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসনে মনোনয়ন পেয়ে সাংসদ হয়েছিলেন জাপা নেতা অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। ২০১৮ সালে মহাজোটের মনোনয়ন পান তার মেয়ের জামাই জাপা কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঞা। কিন্তু জিয়াউল হক মৃধা মেয়ের জামাইর বিরুদ্ধে অনড় থাকায় রেজাউল ইসলাম ভূঞা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন জিয়াউল হক মৃধা। ওই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া ধানের শীষ প্রতীকে ৮৩ হাজার ৯৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মো. মঈনউদ্দিন মঈন। স্বতন্ত্র প্রার্থী জাপা নেতা জিয়াউল হক মৃধা গত নির্বাচনে ৩৯ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।
আগামী উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠে নেমেছেন মহাজোটের সাবেক সাংসদ জাপা কেন্দ্রীয় নেতা জিয়াউল মৃধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বিগত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈনউদ্দিন মঈন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান আনসারী, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেন, ঢাকাস্থ ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ অ্যাডভোকেট সৈয়দ আকবর হোসেনের ছেলে অ্যাডভেকেট সৈয়দ তানভীর হোসেন।
প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনায় আছেন আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজি ছফিউল্লাহ, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আবদুল হান্নান রতন। দুইবারে মহাজোটের মনোনয়ন পাওয়া জিয়াউল হক মৃধা মহাজোটের স্বার্থে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী। তিনি মনে করেন সাংসদ থাকাকালে তিনি এলাকায় উন্নয়নে যেমন ভূমিকা রেখেছেন তেমনি মহাজোটের সঙ্গেও সমন্বয় করেছেন যথাযথ।
মঈনউদ্দিন মঈন বলেন, গত নির্বাচনের পর থেকে মাঠেই আছি। বিগত নির্বাচনে আমি পাস করার মতো ভোটও পেয়েছিলাম। মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু মনে করেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও নিজের বৃহত্তর দুটি ইউনিয়নসহ সরাইলের বাসিন্দা হিসেবে তিনি নির্বাচনে ভালো করবেন। তিনি জোরালো প্রচেষ্টা চালাবেন।
সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ও সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম শিউলী আজাদ একবার এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নও পেয়েছিলেন। পরে মহাজোট প্রার্থীকে ছাড় দেন। এবারও তিনি মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, নেত্রী মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব।
১৯৭৩ সালের পর এ আসনটিতে আওয়ামী লীগের কেউ নির্বাচিত হতে পারেননি। সরাইল উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল ও সদর উপজেলার বিএনপি অধ্যুষিত কয়েকটি ইউনিয়ন এ আসনে যুক্ত থাকায় নৌকার প্রার্থীরা বারবার পরাজিত হয়েছেন। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরাইলের সাথে যুক্ত হয় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আশুগঞ্জ উপজেলা।
আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের বলেন, সরাইল ও আশুগঞ্জ দুটি উপজেলাতেই আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক রয়েছে। তাই আমরা কোনোভাবেই এ আসনে আওয়ামী লীগের বাইরে কাউকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই না। মহাজোটের শরিক জাপার তেমন অস্তিত্বই নেই বলে দাবি করেন তিনি।
সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেন বলেন, আমরা ’৭৩ সালের পর নৌকার কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী বা সাংসদ হিসেবে দেখতে পাইনি। আমরা দল ও নেতাকর্মীদের প্রাণের দাবি হিসেবে এ আসনে নৌকার প্রার্থী দেখতে চাই।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু বলেন, এবার ৫০ বছরের ইতিহাস বদলানোর সুযোগ হবে যদি আওয়ামী লীগের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। দলের নেতাকর্মীদের কেউ আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলের কাউকে প্রার্থী দেখতে চায় না। দলকে শক্তিশালী রাখার জন্য হলেও নৌকার প্রার্থী আমরা চাই।
