মুন্সীগঞ্জ সদরের উত্তর চরমশুরা গ্রামে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ভূমি অধিগ্রহণ না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন ফসলি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সফিউদ্দিন আহমেদ মিলনায়তনে উত্তর চরমশুরা গ্রামবাসীর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পড়েন চরকেওয়ার ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ভূঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ছায়েব আলী সিকদার, মনির হোসেন মাহমুদ, আবুল খায়ের পাইক, কৃষক মিরাজুল ইসলাম, হারেছ পাইক, ইদ্রিস আলী, শফি মিজি, জালাল বেপারী, আবদুল আউয়াল, নুর হোসেন প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে সোহাগ ভূঁইয়া বলেন, চরকেওয়ার ইউনিয়নের চরমশুরা মৌজার ম্যাপের ৫ নম্বর সিটের ১২৩ একর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা হলেও জেলা প্রশাসন এর বাইরে অর্থাৎ ওই মৌজাম্যাপের ২ নম্বর সিটের ১৫০ কৃষকের প্রায় ৫০ একর জমি দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সেখানে সম্প্রতি লাল নিশান টানিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জ জেলার ৩০০-৪০০ মেগাওয়াট সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে চরমশুরা মৌজার ১২৩ একর জায়গা অধিগ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু গত ২১ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অধিগ্রহণ করা জমির বাইরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে সীমানা পিলার দেওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় গ্রামবাসী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বাধা দিতে গেলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা গ্রামবাসীকে জেলে ঢুকিয়ে দেবে বলে হুমকি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সোহাগ ভূঁইয়া চরমশুরা মৌজার ২ নম্বর সিটের ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করেন।
তবে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) স্নেহাশীষ দাশ বলেন, মামলা, হুমকি-ধামকির বিষয়টি একেবারে বানোয়াট। মূলত ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জমি মাপতে গিয়েছিলাম। সেখানে জমির পরিমাপ করা হয়েছে। কারও জমি জোরপূর্বক দখল করে সীমানা দেওয়া হয়নি।
