লিওনেল মেসির দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে। কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা উঠেছে তার হাতে। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষদিকে এসে তিনি পেয়েছেন পরম আকাঙ্ক্ষিত শিরোপার স্বাদ। সেজন্য তাকে খেলতে হয়েছে ফুটবলের মহাযজ্ঞের পাঁচটি আসরে। তবে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এক যুগ আগেই বিশ্বকাপের ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে পারতেন। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন।
সেসময় দেশটির বিখ্যাত ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে তখন মাঠ মাতাচ্ছেন মেসি। যদি স্প্যানিশ জার্সিতে তিনি খেলতেন! তাহলে হয়তো ওই আসরেই ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের সোনালী ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখতে পারতেন। মেসিকে দলে পেতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না দলটির তৎকালীন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের। কিন্তু ক্ষুদে জাদুকরের ভালোবাসার সবটুকু তো বরাদ্দ মাতৃভূমি আর্জেন্টিনার জন্য!
মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেসিকে আর্জেন্টিনা ছাড়তে হয়েছিল। সময়ের প্রয়োজনে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন বার্সেলোনায়। এই ক্লাবেই তার বেড়ে ওঠা, তারকাখ্যাতি পাওয়া, ফুটবল দুনিয়ার চূড়ায় ওঠা। গত বছর ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে নাম লেখানোর আগ পর্যন্ত দুই দশক তিনি কাটান সেখানেই।
বার্সায় তার সতীর্থ জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জেরার্দ পিকেরা যখন স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মশগুল, তখন মেসিকে ভোগাচ্ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ার ক্ষত। জার্মানির কাছে সেবার ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল আর্জেন্টিনা।
২০০৫ সালেই আলবিসেলেস্তেদের হয়ে অভিষেক হয়েছিল মেসির। পরের বছর বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমে গোল-অ্যাসিস্টও পেয়ে যান। তবে ফিফার অনুমতি সাপেক্ষে মেসি চাইলে ২০১০ সালের আসরে দল পাল্টে স্প্যানিশদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারতেন। কারণ দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে তার। আর্জেন্টিনার পাশাপাশি তিনি স্পেনেরও নাগরিক। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন দেল বস্ক।
কিন্তু আর্জেন্টিনার প্রতি মেসির ভালোবাসা ছাপিয়ে তাকে বোঝাতে সফল হননি বিশ্বকাপ জয়ী এই কোচ, ‘আমি মেসিকে স্পেনের হয়ে খেলানোর জন্য সব চেষ্টাই করেছিলাম। কিন্তু লিওনেল (আমার প্রস্তাব) প্রত্যাখ্যান করেছিল নিজের দেশের প্রতি তার ভালোবাসার কারণে।’
বিশ্বকাপ জিতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে এতদিন ধরে চলে আসা সেরার দ্বৈরথের যেন ইতি টেনে দিয়েছেন মেসি! দেল বস্কের চোখেও ৩৫ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন অধিনায়কই এগিয়ে, ‘আমার দেখা সেরা খেলোয়াড় হলো মেসি। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও মেসির মধ্যে আমি মেসিকে বেছে নেব। ফুটবলে অনেক অনেক বছর কাটিয়ে আমি যত খেলোয়াড়কে দেখেছি, তাদের মধ্যে মেসি আমাকে মুগ্ধ করেছে তার ধারাবাহিকতা ও খেলোয়াড় হিসেবে দক্ষতার কারণে। সে চমৎকার কিছু মৌসুম কাটিয়েছে এবং সব সময়ই দলের সামনে এগিয়ে যাওয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছে।’
