প্রকৌশলী ইনামুলকে লাঞ্ছনাকারী কৃষক লীগ নেতা বানি

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৫৯ এএম

নিজ দলের পক্ষে প্রচারপত্র বিতরণ করতে গিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা ও হামলার শিকার হন প্রবীণ প্রকৌশলী ম ইনামুল হক। তাকে লাঞ্ছনায় জড়িত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম বানি আমিন। তিনি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি। বানি আমিন এলাকার একটি হত্যা মামলাসহ কয়েকটি মামলার আসামি ছিলেন।

জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে পাঞ্জাবি পরিহিত প্রকৌশলী ম ইনামুল হক প্রচারণা চালাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি লিফলেট বিলি ও বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে কৃষক লীগের পক্ষ থেকে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বানি আমিন। ইনামুল হকের বক্তব্যে সরকারের সমালোচনা করা হচ্ছিলÑ এমন অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে তাকে মারধর করেন তিনি। এ ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন।

ইনামুল হককে লাঞ্ছনার বিষয়ে গতকাল সোমবার মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরের কথা হয় কৃষক লীগ নেতা বানি আমিনের সঙ্গে। বর্তমানে তিনি তার অসুস্থ স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে কুষ্টিয়াতে অবস্থান করছেন। ইনামুল হককে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে এর জন্য অনুতপ্ত বলে জানান তিনি।

কৃষক লীগ নেতা বলেন, ‘ঘটনাস্থলের কয়েকশ গজ দূরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হচ্ছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। এমন স্পর্শকাতর জায়গায় সরকারবিরোধী লিফলেট বিলি করতে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠি। এ সময় আমার সঙ্গে এলাকার আরও সাত-আটজন ছিল। তাৎক্ষণিক লিফলেট বিলিকারী বয়স্ক ব্যক্তিকে (ইনামুল হক) ওই স্থান থেকে সরে যেতে বলি। কিন্তু তারপরও তিনি নিষেধ না মেনে লিফলেট বিলি করতে থাকলে গায়ে হাত তুলতে বাধ্য হই। গায়ে হাত তুলে তাকে সরে যেতে বাধ্য না করলে হয়তো তিনি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হতে পারতেন।’

ঘটনাটি প্রথমে খুবই তুচ্ছ মনে হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাঞ্ছিত করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নানামুখী চাপে রয়েছেন বলে জানান বানি আমিন। তিনি বলেন, ‘এখন মনে হচ্ছে একজন বৃদ্ধ মানুষের গায়ে এভাবে হাত তুলে লাঞ্ছিত করা ঠিক হয়নি। এ ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত।’

বানি আমিনের নিজ গ্রামে গেলে এলাকাবাসী জানায়, সচ্ছল পরিবারের সন্তান বানি আমিন চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট। অনেকটাই ভবঘুরে বেকার জীবনযাপন করেন। বাবার অনেক জমিজমা থাকায় সেগুলো দেখাশোনা করে সংসার চালান। তবে তিনি এলাকায় তেমন কারও সঙ্গে মিশতেন না। ২০০২ সালে এলাকার মাহিরুল ও ইউনুস হত্যা মামলার আসামি হন। যদিও পরে সেই মামলায় আদালত থেকে অব্যাহতি পান।

বানি আমিনের বড় ভাই হাজি রেজাউল হক বলেন, ‘ছোট ভাই ঢাকায় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গিয়েছিল। সেখানে কী হয়েছে জানা নেই। এখন অনেকের মুখ থেকে শুনছি ঢাকায় এক প্রবীণ প্রকৌশলীকে মারধর করেছে। তবে কাউকে লাঞ্ছিত কিংবা মারধর করে থাকলে সেটা অবশ্যই অন্যায় করেছে।’

বেতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাসিন শেখ বলেন, ‘একজন প্রবীণ প্রকৌশলীকে মারধর করার ঘটনাটি এলাকাবাসী ফেইসবুকে দেখেছে এবং ক্ষুব্ধ হয়েছে। কেউ অপরাধী হলে তাকে আইনের কাছে সোপর্দ করা উচিত। কিন্তু বানি আমিন মারধর ও লাঞ্ছিত করে অন্যায় করেছে। এতে নিজ এলাকার এবং মেহেরপুরের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে দেশের মানুষের কাছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত