দেশে ডলার সংকটে টাকায় ঋণপত্র খোলা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশের পোশাক খাতের দুই শীর্ষস্থানীয় সংগঠন। রপ্তানি আয়ের ডলার পেতে ব্যাংকগুলোতে নানা সমস্যা থাকায় টাকায় এলসি খোলার অনুমতি চায় নিটওয়্যার পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। তবে সুতা প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বিটিএমএ টাকায় এলসি খোলার বিপক্ষে দাবি তুলেছে। সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল বুধবার এ বিষয়টি নিয়ে দুই বাণিজ্যিক সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিকেএমইএর প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাতেম এবং বিটিএমএর প্রতিনিধি বাদশা মিয়া নিজেদের পক্ষে দাবি তুলে ধরেন। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল, নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন এবং সহকারী মুখপাত্র এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগের পরিচালক মো. সারওয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বিকেএমইএর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিটিএমএ প্রতিনিধি বাদশা মিয়া বলেন, ‘আমাদের তুলা কিনতে হয় ডলার দিয়ে, সুতা বিক্রি করি ডলারে। পোশাক মালিকরা সুতা কেনেন ব্যাক টু ব্যাক এলসির মাধ্যমে। তারা এক্সপোর্ট পেমেন্ট দিয়েই আমাদের পেমেন্ট দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘টাকায় এলসি খোলা হলেও ডলার সাশ্রয়ের কোনো সুযোগ নেই। টাকায় এলসি করা হলে, আমরা তুলা কেনার ডলার কোথায় পাব।’
বৈঠকের বিষয়ে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বর্তমানে আমরা কঠিন সময় পার করছি। পণ্য রপ্তানি করলে অনেক সময় ডলার পেতে বিলম্ব হয়। যার ফলে নতুন করে এলসি খুলতে ডলার দিতে পারি না। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ সময়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকায় এলসি দায় পরিশোধে অনুমতি চেয়েছি। এতে সব ডলার দেশের মধ্যেই থাকবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে।’
এদিকে বিটিএমএ প্রতিনিধি বাদশা মিয়া বলেন,‘ টাকায় এলি খোলা হলে নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গের মতো কাজ হবে। আমরা ইডিএফ ফিন্যান্স, ফরেন ফিন্যান্স, টার্মলোন নিয়েছি। এটা ডলারে পরিশোধ করতে হয়। এ জন্য ডলার কোথা থেকে আসবে। তারা তো অবিক্রীত দেশীয় সুতা কিনতে পারে। আপাতত এসব এলসি বন্ধ রাখা হোক।’
চলমান ডলার সংকট আগামী জানুয়ারিতে কেটে যাবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন কোনো সম্ভাবনার খবর নেই। যদি সংকট না থাকে, তাহলে ভালো।’
আলোচনা হলেও এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইস্যুটির সঙ্গে কর জড়িত, তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের একার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে, আজ তাদের বক্তব্য শোনা হলো।’
