ই-জিপিতে বছরে সাশ্রয় ৬০ কোটি ডলার : সিপিটিইউ

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০৫ এএম

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ২০১১ সালে দেশে শুরু হয় ই-জিপি কার্যক্রম। আর এই ই-জিপির কারণে বছরে এখন বিপুল পরিমাণের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) জানিয়েছে, অনলাইনে দরপত্র কার্যক্রম চলার কারণে বছরে দেশের সাশ্রয় হচ্ছে ৬০ কোটি ডলার। সাশ্রয়ের পাশাপাশি এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বছরে সরকারের আয় হয় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সিপিটিইউতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিশ^ব্যাংকের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এসব তথ্য দেন সিপিটিইউর মহাপরিচালক মোহাম্মাদ শোহেলের রহমান চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) বিদায়ী সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান।

এ সময় মোরশেদ জামান বলেন, ইজিপি অনেক কাজ করছে, অনেক পরিবর্তনও এসেছে। বিশ^ব্যাংক এটিকে পছন্দ করেছে। বিভিন্ন দেশকে তারা পরামর্শ দিচ্ছে বাংলাদেশের ই-জিপি কার্যক্রম অনুসরণ করার জন্য। মোজাম্বিকের একটি দল ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণের জন্য এসেছে।

তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটিই এখন কাগজবিহীন হয়েছে। সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ পরিকল্পনায় বড় অংশীদারত্ব সিপিটিইউর। ইতিমধ্যে আইএসও সনদ ও ডিরেক্টর অ্যাওয়ার্ড এর বড় অর্জন।

সিপিটিইউ মহাপরিচালক শোহেলের চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ই-জিপি সিস্টেমের মাধ্যমে আহ্বানকৃত দরপত্রের বিজ্ঞাপন ও চুক্তির শতভাগ প্রকাশিত হচ্ছে। দরপত্রের ৯৯ শতাংশ নির্ধারিত দরপত্র মেয়াদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হচ্ছে। এ সিস্টেম থেকে বছরে ৪০০-৪৫০ কোটি টাকা আয় হয়। এ ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বমোট আয় ১ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা।

তিনি বিশ^ব্যাংকের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইজিপি চালুর পর ক্রয় প্রক্রিয়াকরণের গড় সময় ৮৬ দশমিক ৭ দিন থেকে ৫৮ দিন হয়েছে। ই-জিপি সিস্টেম ব্যবহারের ফলে বার্ষিক ৬০ কোটি  মার্কিন ডলার সাশ্রয় হচ্ছে, দরদাতাদের ৪৯ দশমিক ৭ কোটি কিলোমিটার ভ্রমণ দূরত্ব কমেছে, ১০৫ কোটি পাতা কাগজ সাশ্রয় হয়েছে এবং ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৯ টন কার্বন নিঃসরণ কম হয়েছে।

সোহেলার চৌধুরী আরও বলেন, চলতি ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ই-জিপিতে আহ্বানকৃত দরপত্রের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬ লাখ। নিবন্ধিত দরদাতার সংখ্যাও এক লাখের বেশি। ৫৯টি ব্যাংকের ৬ হাজার ৫০০ শাখার অধিক সারা দেশে দরদাতাদের পেমেন্ট সেবা দিচ্ছে। অনলাইনেও পেমেন্ট চলছে। বিশ্বব্যাপী কডিভ পরিস্থিতিতেও ই-জিপির কার্যক্রম একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। ইতিমধ্যে এ সিস্টেমটি আইএসও সনদ পেয়েছে।

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কাজের বাস্তবায়ন মানসম্মত হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে স্থানীয় নাগরিকদের মাধ্যমে নির্বাচিত ক্রয় কাজের পরিবীক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৮ বিভাগের, ১৬ জেলার ৪৮ উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ৪৮টি উপজেলায় ৩১৬টি চুক্তি বা কাজ পরিবীক্ষণ করা হয়েছে। উল্লিখিত বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে ইতিমধ্যে সরকারি ক্রয়ে নাগরিক সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত মডেল চূড়ান্ত করা হয়েছে। ‘ডিজিটাইজিং ইমপ্লিমেন্টেশন মনিটরিং অ্যান্ড পাবলিক প্রকিউরমেন্ট প্রজেক্ট’-শীর্ষক প্রকল্পটি জুলাই ২০১৭-ডিসেম্বর ২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পটি প্রতি বছর প্রায় শতভাগ লক্ষ্য (ভৌত ও আর্থিক) অর্জন করছে এবং বিশ্বব্যাংক কর্তৃক স্যাটিসফ্যাকটরি প্রকল্প হিসেবে অভিহিত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত