বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, 'মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই মাঝপথে তাড়াহুড়ো করে উদ্বোধন নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। বন্দুকের মুখে জিম্মি করে ১৪ বছর ধরে জোর করে ক্ষমতায় থাকা বিনা ভোটের সরকার বুঝতে পেরেছে তাদের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার করে কণ্ঠ রোধের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার দিন ফুরিয়ে এসেছে।'
আজ শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রিন্স।
প্রিন্স বলেন, 'মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেখ হাসিনা সেই পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ভরসা পাচ্ছেন না। এ কারণে উন্নয়ন দেখাতে কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঢাকঢোল পিটিয়ে জনগণের কোটি কোটি টাকা অপচয় আর তাড়াহুড়ো করে মেট্রোরেলের একাংশের উদ্বোধন করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'স্বৈরাচারের অবসান ঘটিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের ধ্বংসস্তূপের ওপর সংসদীয় পতাকা উড়িয়েছিলেন। দেশকে ইমার্জিং টাইগারে রূপান্তর করেছিলেন। দেশকে ১৪ বছরে লুটপাট করে দুর্ভিক্ষের রাজ্যে পরিণত করেছিল লুটেরা সরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন মানে দুর্নীতির মহোৎসব।'
বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন মানে অর্থনীতিকে পথে বসিয়ে দেওয়া। সরকার জনগণের জন্য উন্নয়ন করছে না, তথাকথিত উন্নয়নের নামে নিজেদের পকেট ভরছে এবং হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছে। সেখানে সাধারণ জনগণের জন্য কোনো উন্নয়ন নেই।'
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, 'গতকাল নয়াপল্টনের গণমিছিলে আসার পথে এবং মিছিল থেকে ফেরার পথে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ১৬ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এই গণমিছিলকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'চলমান আন্দোলনকে দমন করতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়াসহ হাজারো নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার। তাদের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ। কারাগারে তারা সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না। রুহুল কবির রিজভী বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। আমরা তাকে কারাগারের বাইরে অন্য কোনো উন্নত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। প্রয়োজনে চিকিৎসা খরচ পরিবার বহন করবে।'
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
