দায়িত্ব আর ভালোবাসায় সফল মাবিয়া

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:২৬ পিএম

মাবিয়া আক্তারের জীবন ঠিক সিনেমার গল্পের মতো। রুপালি পর্দায় তবু সবকিছুর একটা শেষ থাকে। কিন্তু মাবিয়ার জীবনের বাঁকে বাঁকে কেবলই সংগ্রামের গল্প। তবু পরিশ্রম আর একাগ্রতার মিশেলে শেষ হাসিটা মাবিয়াই হাসেন।

মাবিয়ার ক্যারিয়ারে দুটি অধ্যায়। একটি ২০১৬ দক্ষিণ এশিয়ান গেমস (এসএ গেমস) পূর্ববর্তী, অন্যটা পরবর্তী অধ্যায়। প্রথমবার এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ের আগে কেবলই জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্যে একলা ছুটেছেন মাবিয়া। ঝুঁকি ছিল সেখানে, ছিল অনেক বঞ্চনার গল্প। কে-ই বা সে সবের খোঁজ রাখত। এর মধ্যেই পরশ পাথরের মতো আসল এসএ গেমসের আসরটি। শিলং-গৌহাটির সেই আসরে ভারোত্তোলনে স্বর্ণ জিতলেন মাবিয়া। পদক মঞ্চে উঠলেন। যেখানে জাতীয় সংগীত বেজে উঠতেই তাতে সুর মেলাতে গিয়ে কেঁদে একাকার হলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সেই ভিডিও ভাইরাল হলো। মাবিয়া হয়ে উঠলেন সবার পরিচিত মুখ।

দ্বিতীয় অধ্যায়েও বঞ্চনা আছে, না পাওয়ার হাহাকার আছে। তবে তার পরিশ্রম আর সংগ্রামের সঙ্গে যোগ হয়েছে দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব থেকেই মাবিয়া নিজের ইতিহাস সমৃদ্ধ করে চলেছেন। দেশের প্রথম নারী ভারোত্তোলক হিসেবে এসএ গেমসে স্বর্ণ জেতার কীর্তি গড়েছিলেন। ২০১৯ সালে স্বর্ণ ধরে রাখেন। দেশের প্রথম নারী ভারোত্তোলক হিসেবে এসএ গেমসের টানা দুই আসরে স্বর্ণজয়ের কীর্তি সেটি। সব খেলা মিলিয়েই মাবিয়া একমাত্র নারী যিনি টানা দুটি এসএ গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণজয়ের নজির দেখিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক এই সাফল্যের বাইরে ঘরোয়া প্রতিযোগিতাতেও মাবিয়া অপ্রতিরোধ্য। ভার তোলায় প্রতিনিয়ত নিজেই নিজের রেকর্ড ভেঙে এগিয়ে চলেছেন। তাকে যেন টেক্কা দেওয়ার কেউ নেই সেখানে। সদ্য বিদায়ী বছর মাবিয়া শেষ করেছেন আন্তঃসার্ভিসেস ভারোত্তোলনে স্বর্ণজয় করে। ৬৪ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্ন্যাচে ৭৮ কেজি ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০৩ কেজি ওজন তোলেন তিনি। সব মিলিয়ে তোলেন ১৮১ কেজি। এরমধ্যে ক্লিন অ্যান্ড জার্কে যে ওজন তুলেছেন সেটা নিজের নতুন রেকর্ড। অথচ মাবিয়া ২০১৬ সালে যখন স্বর্ণ জেতেন তখন স্ন্যাচে সর্বোচ্চ ৬৬ কেজি ওজন তুলতে পারতেন। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে তুলতে পারতেন ৮২ কেজি। অর্থাৎ সবশেষ ৬ বছরে মাবিয়ার পারফরম্যান্সের গ্রাফ কেবল ওপরেই উঠেছে।

এখন পর্যন্ত আন্তঃসার্ভিস প্রতিযোগিতা হয়েছে ছয়বার। যার সবকটিতেই সেরা খেলোয়াড় মাবিয়া। শেষ নয়টি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের আটটিতে পেয়েছেন সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। কীভাবে সম্ভব? আকাক্সক্ষা। মাবিয়ার কথায়, ‘নিজের তৃপ্তির একটা ব্যাপার আছে। সেই জায়গায় বলব নিজের তৃপ্তিটা নেই আমার। সব সময় মনে হয় আমি যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম।’ দেশের ক্রীড়াঙ্গনকেই আলোকিত করে চলা মাবিয়ার। বিশ্বাস করেন, ‘ভালোবাসা আর লক্ষ্যে পৌঁছার তীব্র আকাক্সক্ষা নিয়ে যদি কেউ কিছু করে তার সফলতা আসবেই। আমার আকাক্সক্ষা তো ছিলই, পরে ভালোবাসাটা এসেছে। তাই কখনো হতাশ হতে হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত