রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জাতীয় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছি আমরা। ২০২২ সাল আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং একটি বছর ছিল। সমগ্র বিশ্বই পার করছে এ কঠিন সময়। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী, সুন্দর ও উন্নতসমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেওয়া আমাদের পবিত্র কর্তব্য। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূলের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাঙালি জাতিকে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। রীতি অনুযায়ী বছরের প্রথম অধিবেশনে তিনি ভাষণ দেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
সময় সাশ্রয়ের জন্য সংক্ষিপ্ত ভাষণে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে একটি রক্তক্ষয়ী জনযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীন সার্বভৌম এ দেশে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং তাদের সকল প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু মহান জাতীয় সংসদ। আপনারা জনপ্রতিনিধি, তাই জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। দেশের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে জাতি এগিয়ে যাক ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মমর্যাদাশীল বঙ্গবন্ধুর সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ গড়ার পথে। আপনাদের সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।
এদিকে এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংসদে শেষ ভাষণ হওয়ায় সবাই আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করে কুশল বিনিময় এবং স্মৃতিচারণ করেন। গত দুই বছর করোনার কারণে ভাষণের সময় কারও সঙ্গে দেখা না হলেও এবার তার সঙ্গে অনেকেই দেখা করেন।
একাদশ জাতীয় সংসদের ২১তম ও বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর বিকেল ৫টার দিকে রাষ্ট্রপতি সাংবাদিক লাউঞ্জে যান। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা সাংবাদিকদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন। জমিয়ে আড্ডা দেন তিনি। এরপর তার পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। এ সময় তিনি স্পিকার থাকায় অবস্থায় সংসদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। রাষ্ট্রপতি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হাস্যরসে মেতে ওঠেন। বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজেএ) সভাপতি হারুন আল রশীদ, সাধারণ সম্পাদক নাফিজা দৌলা ও কোষাধ্যক্ষ সিরাজুজ্জামান প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২৩ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসর নেবেন আবদুল হামিদ।
জাতীয় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ অতিবাহিত করার কথা উল্লেখ করে সংসদে দেওয়া শেষ ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘২০২২ সাল আমাদের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জের একটি বছর। সমগ্র বিশ্বই পার করছে এক কঠিন সময়। করোনা অতিমারী আমরা সফলভাবে মোকাবিলা করে অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হলেও রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ আমাদের এ অগ্রযাত্রাকে শ্লথ করেছে। তারপরও ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেট ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইতিবাচক। মাথাপিছু জাতীয় আয় পূর্ববর্তী অর্থবছর থেকে ২৩৩ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৮২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে আমাদের অর্থনীতিতে গতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। সরকার ঘোষিত ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার কৃষি, গার্মেন্টসসহ ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের সরাসরি উপকারভোগী প্রায় ৭ কোটি ৩২ লাখ ব্যক্তি ও প্রায় ২ লাখ প্রতিষ্ঠান। সরকার কর্র্তৃক কৃষি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিগত অর্থবছরে ১৫ হাজার ১৭২ দশমিক ৭৯ কোটি টাকা ভর্তুকি এবং ৩৯ হাজার কোটি টাকা সরল সুদে কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মধ্যে ৫০০ কোটি টাকার বীজ, সার এবং কীটনাশক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।’
আবদুল হামিদ বলেন, হর্টিকালচার, মৎস্য চাষ, পোলট্রি, ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮৭ হাজারের অধিক সুবিধাভোগীর অনুকূলে স্বল্প সুদে প্রায় ২ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় মাছধরা বন্ধকালীন ২০২১-২২ অর্থবছরে ১২ লাখ ৪৫ হাজারের অধিক জেলে পরিবারকে প্রায় ৯৬ হাজার ৫৫০ টনের অধিক খাদ্যশস্য ভিজিএফ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮ লাখের অধিক মৎস্য চাষি/খামারিকে প্রায় ৯০৩ কোটি টাকা নগদ এবং উৎপাদন উপকরণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিতে বস্ত্র ও পাট খাতের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার এবং তৈরি পোশাক খাত থেকে ৪২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ সেøাগান নিয়ে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র আওতায় ৫০ লাখ ১০ হাজারের অধিক নিম্ন আয়ের পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল এবং ২৪ টাকা দরে ৫ কেজি আটা বিতরণ করছে। খোলা বাজারে খাদ্য বিক্রয় (ওএমএস) চালু আছে দেশের সব উল্লেখযোগ্য হাট-বাজারে। এ ছাড়া সরকার টিসিবির মাধ্যমে এক কোটি পরিবারকে সাশ্রয়ীমূল্যে সয়াবিন তেল, চিনি ও মসুর ডাল সরবরাহ করছে।
তিনি বলেন, এখন প্রত্যন্ত গ্রামেও একজন দিনমজুরের বেতন দিনে কমপক্ষে ৭০০ টাকা। একই সঙ্গে বেড়েছে জাতীয় উৎপাদন। বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষিত রয়েছে এবং বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্য মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ১৪ লাখ টন, যা সন্তোষজনক। এ ছাড়া এবারে দেশব্যাপী আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন জোরদার করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসে প্রতি বছর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির বাজেট বৃদ্ধি করা হচ্ছে যার পরিমাণ ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। বর্তমানে বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৫৭ লাখ, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারী ভাতাভোগীর সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তির উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ এবং প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ জন।
বিগত অর্থবছরে ভিজিডি চক্রে সারা দেশে ১০ লাখ ৪০ হাজার উপকারভোগীকে প্রতি মাসে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগী ১২ লাখ ৫৪ হাজার জনকে মাসিক ৮০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। সরকার ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে দেশের সব নাগরিকের জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে অধিবেশন : একাদশ সংসদের ২১তম অধিবেশন শুক্র ও শনিবার ছাড়া ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন বিকেল সোয়া ৪টায় অধিবেশন শুরু হবে। গতকাল বেলা ৩টায় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
কমিটির সভাপতি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। কমিটি সদস্য এবং সংসদনেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, আমির হোসেন আমু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকু, আনিসুল হক, গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী।
এ ছাড়া বৈঠকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ১০ জানুয়ারি বিশেষ আলোচনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাতীয় সংসদের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী এপ্রিল মাসে বিশেষ অধিবেশন হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। উল্লেখ্য, এ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকের শুরুতে সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। বৈঠকে একাদশ সংসদের ২১তম ও ২০২৩ খ্রিস্টাব্দের প্রথম অধিবেশনের কার্যাদি নিষ্পন্নের জন্য সময় বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আবদুস সালাম বৈঠক সঞ্চালনা করেন। এতে সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৫ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর মনোনয়ন : একাদশ সংসদের ২১তম ও ২০২৩ সালের প্রথম অধিবেশনের জন্য সংসদে পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। গতকাল স্পিকার এ মনোনয়ন দেন।
সভাপতিম-লীর সদস্যরা হচ্ছেন রমেশ চন্দ্র সেন (ঠাকুরগাঁও-১), এ কে এম শাজাহান কামাল (লক্ষ্মীপুর-৩), ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন (কুমিল্লা-৩), কাজী ফিরোজ রশীদ (ঢাকা-৬) ও সালমা চৌধুরী (নারী আসন-৩৪)। স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তালিকার অগ্রবর্তিতা অনুযায়ী তারা সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
আটজনের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত : সাবেক মন্ত্রী, দুজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, একজন সাবেক বিরোধীদলীয় হুইপ ও চারজন সাবেক সংসদ সদস্যের (এমপি) মৃত্যুতে সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। গতকাল স্পিকারের সভাপতিত্বে চলতি সংসদের ২১তম ও ২০২৩ সালের প্রথম অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে এ শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।
যাদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে তারা হলেন সাবেক জ¦ালানি ও প্রাকৃতিকসম্পদ মন্ত্রী এবং সাবেক বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানিসম্পদ মন্ত্রী, কুমিল্লা-৪ আসনের সাবেক এমপি এবিএম গোলাম মোস্তফা; ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. এসএ মালেক; সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এবং বরিশাল-৪ আসনের এমপি শাহ মুহাম্মদ আবুল হোসাইন; সাবেক পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক এমপি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী; কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি ড. আলাউদ্দীন আহাম্মদ; সাবেক বিরোধীদলীয় হুইপ ও ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবেক এমপি মো. মসিউর রহমান; বগুড়া-৯ আসনের সাবেক এমপি এসএম ফারুক; পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক এমপি মো. শাহজাহান খান।
এ ছাড়া সংসদ সচিবালয়ে কর্মরত অফিস সহায়ক কাম চাবিরক্ষক মো. মাহবুব আলম প্রধানের মৃত্যুতে সংসদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে।
শোক প্রস্তাবে এমপি মৃণাল কান্তি দাসের মা গীতা রানী দাস, এমপি নাদিরা ইয়াসমিন জলির বাবা মোশারেফ হোসেন (কালু), এমপি মো. শাহে আলমের মা মোসাম্মৎ রিজিয়া বেগম, চীনের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মা হিরাবেন মোদি, ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো (পেলে), মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক সরকার, পীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ হাইফুজ্জামান ফুল, স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরীর স্ত্রী অনিতা চৌধুরীর মৃত্যুতে সংসদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।
এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করে সব বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানায়।
মৃত্যুবরণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে সংসদে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।
