ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ শারমিন নিগারের বিরুদ্ধে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে বিচারকাজ বিঘি্নত করার অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির ২১ আইনজীবীকে তলব করেছে উচ্চ আদালত। ২৩ জানুয়ারি জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বাবুলসহ ২১ আইনজীবীকে হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না তা জানতে রুল দিয়েছে আদালত। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ এ আদেশ দেন। গত ২ জানুয়ারি জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ)
মোহাম্মদ ফারুক ও আদালতের কর্মচারীদের সঙ্গে আইনজীবীদের অশালীন আচরণ, গালিগালাজ, হুমকি ও এজলাসে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা বারের সভাপতি ও অন্য আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর চিঠি পাঠান বিচারক মোহাম্মদ ফারুক। অভিযোগটি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপনের পর প্রধান বিচারপতি বিষয়টি হাইকোর্টের এ বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে ১৭ জানুয়ারি জেলা বারের সভাপতি মো. তানভীর ভূঞা, সহ-সম্পাদক মো. আক্কাস আলীসহ তিন আইনজীবীকে হাইকোর্টে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে তলব করে। আইনজীবীদের ধারাবাহিক কর্মসূচিতে গত কয়েক দিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের বিচারকাজে অচলাবস্থা চলছে।
গত সোমবার বিচারক শারমিন নিগার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর অভিযোগ করে প্রতিকার চেয়ে একটি চিঠি দেন। এতে তিনি বলেন, হাইকোর্ট আদালত অবমাননার রুল জারি করায় তারা (আইনজীবীরা) আরও ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৫ ও ৮ জানুয়ারি তারিখে এজলাস চলাকালীন কতিপয় আইনজীবী তার বিরুদ্ধে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ সেøাগান দেন। এতে বিচারকাজ প্রশ্নবিদ্ধ ও বিঘিœত করাসহ মানহানি করার অভিযোগ করেন।
বেঞ্চের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তুষার কান্তি রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, অভিযোগটি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপনের পর বিষয়টি হাইকোর্টের এ বেঞ্চে পাঠান প্রধান বিচারপতি। এর ধারাবাহিকতায় আদালত ২১ আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুলসহ তাদের তলব করে আদেশ দেন।
দুই জজের অপসারণ দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনজীবীদের আরও তিন দিনের কর্মবিরতি চলছে : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ শারমিন নিগার, নারী ও শিশু নিযার্তন দমন ট্রাব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ ফারুক এবং আদালতের নাজির মোমিনুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে আইনজীবীদের চলমান আদালত বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। গতকালও কোনো আইনজীবী আদালতে কোনো প্রকার শুনানিতে অংশ নেননি। আইনজীবী সমিতির সোমবারের ঘোষণাকৃত তিন কর্মদিবসের কর্মবিরতির গতকাল ছিল প্রথম দিন। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে এ আন্দোলন। আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আইনজীবীরা তাদের আন্দোলন চালানোর পাশাপাশি আইনি লড়াইয়েরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমনকি গতকাল আইনজীবী সমিতির সিনিয়র নেতারা ঢাকায় সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন।
