ফয়সালের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ অব্যাহত

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:১৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের কেমব্রিজে শহরে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাঈদ ফয়সালের মৃত্যুর পর দেশটির পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে অশ্বেতাঙ্গ নির্যাতনের অভিযোগ আবারও জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের অধিবাসীরা বিক্ষোভ করেছেন শহরের সিটি হলে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের শাস্তির পাশাপাশি অশ্বেতাঙ্গদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তাদের। নগর কর্র্তৃপক্ষ ও পুলিশের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

কেমব্রিজ সিটি হলের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে শুধু বাঙালি নন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে স্থানীয় অধিবাসীরা নেমেছেন আন্দোলনে। অনেকের হাতেই ছিল ‘জাস্টিস ফর ফয়সাল’ লেখা প্ল্যাকার্ড। তাদের অভিযোগ, শ্বেতাঙ্গ না হওয়ার কারণেই, ফয়সালের মতো তরুণরা নিরাপত্তা বাহিনীর রোষানলে পড়েন। এ প্রসঙ্গে সিএআইআর (কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন)

মুখপাত্র ফাতুমা মোহামেদ বলেন, ‘ফয়সাল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে জড়ায়নি। এমনকি, সে কমিউনিটির কারও জন্যও হুমকি ছিল না। তাকে বুঝিয়ে নিরস্ত্র করার মাধ্যমে আটক করা যেত। আমাদের প্রশ্ন কেন গুলি করা হলো ফয়সালকে?’

সিডনি স্ট্রিটের এক বাসিন্দা গত ৪ জানুয়ারি জরুরি নম্বরে কল দিলে তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেখানে পৌঁছায় পুলিশ। তাদের দাবি, ধারালো অস্ত্র হাতে সেখানে ঘুরছিলেন ফয়সাল। যদিও কাউকে হামলা বা হুমকির বিষয়টি পুলিশের কাছেও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে আগেও অশ্বেতাঙ্গদের অপরাধী আখ্যা দিয়ে প্রাণঘাতী দমন নীতি প্রয়োগের অভিযোগ আছে। যার জেরে ছড়ায় ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’-এর মতো গণআন্দোলন। ফয়সালের বিষয়টি নিয়ে তাই তড়িঘড়ি জরুরি বৈঠক ডাকা হয় কেমব্রিজ সিটি হলে। এ বিষয়ে কেমব্রিজের মেয়র সুম্বুল সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রশাসন বিক্ষোভকারীদের কষ্ট-বিভ্রান্তি-স্বজন হারানোর বেদনা অনুভব করতে পারছে। পুলিশ বিভাগ খুবই আস্থাহীনতার পরিচয় দিয়েছে। জন্ম দিয়েছে নানা বিতর্ক ও প্রশ্নের। কিন্তু ফয়সালের মৃত্যু বিষয়ে কোনো শক্ত বুনিয়াদ নেই। তাই মেয়র হিসেবে আমারও দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।’

এদিকে, কেমব্রিজের পুলিশ বিভাগও অঙ্গীকার করেছে সুষ্ঠু তদন্তের। শহরের পুলিশ কমিশনার ক্রিস্টিন এলো বলেন, ‘জনমনে আস্থা ফেরানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে কেমব্রিজ পুলিশ বিভাগ। ভালোভাবেই বুঝতে পারছি, মর্মান্তিক এ ঘটনার কারণে আমাদের প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছে শহরবাসী। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত