শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া ঋণের মেয়াদ নতুন করে ৬ মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভা। এর ফলে ২০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধের জন্য আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় পেল চরম আর্থিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কা। এর আগে গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের মার্চের মধ্যে শ্রীলঙ্কা ঋণ পরিশোধ করবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের ৪২৬তম সভা শেষে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন একাধিক বোর্ড সদস্য। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের প্রথম বোর্ড সভায় বিষয়টি সরকারের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক, ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউর প্রধান কর্মকর্তা, চিফ ইকোনমিস্ট ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। জানা গেছে, দেড় বছর আগে নেওয়া ২০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধের মতো অবস্থায় নেই এখন মারাত্মক আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা। এ কারণে আগের কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর এবারও নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে নেওয়া এ ঋণ পরিশোধে প্রথমে তিন মাস সময় বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়। এরপর বন্ধুপ্রতিম দেশটির আর্থিক অবস্থা ক্রমে আরও নাজুক হলে তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ধাপে ধাপে সময় বাড়ানো হচ্ছে।
বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাতে ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের শরণাপন্ন হয়। ২০ কোটি ডলার ধার দিয়ে সে সময় বন্ধুপ্রতিম দেশটির পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক দেশটিকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার অনুমোদন দিলেও পরে কয়েক কিস্তিতে ২০ কোটি ডলার দেয়। ‘কারেন্সি সোয়াপ’ ব্যবস্থায় নেওয়া ওই ঋণ পরিশোধের কথা ছিল তিন মাসের মধ্যে। লাইবর রেটের সঙ্গে ২ শতাংশ যোগ করে সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কা তা দিতে পারেনি। দেউলিয়া ঘোষণার পর শ্রীলঙ্কা থেকে ঋণের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরে শ্রীলঙ্কা সরকারের অনুরোধে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়।
গত অক্টোবরে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় যোগ দিতে এসে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে এ অর্থ তিন কিস্তিতে ফেরত দেবে শ্রীলঙ্কা।
