দুর্নীতি করে ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে কানাডায় পালিয়ে যাওয়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল খালেক অবশেষে স্থায়ী বরখাস্ত হয়েছেন। গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এতদিন বরখাস্তের বিষয়টি গোপন থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার ফাঁস হয়ে যায়। বেবিচকের সদস্য প্রশাসন মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে বরখাস্তের কথা বলা হয়েছে। ১৫ বছরের চাকরি জীবনে ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কানাডায় খালেকের পালিয়ে যাওয়া নিয়ে গত ২৭ জুলাই দেশ রূপান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খালেকের মতো বেবিচকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুজ্জামানও ১৫০ কোটি টাকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তাকেও যেকোনো সময় বরখাস্ত করা হবে বলে বেবিচক সূত্র জানায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বেবিচকের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যাওয়ার পর বেশ তোলপাড় হয়। এ নিয়ে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বেবিচক চেয়ারম্যান কঠোর নির্দেশনা দেন। অন্যদিকে নিজেদের রক্ষা করতে ওই দুই কর্মকর্তা নানা উপায়ে দেন-দরবার চালান। কিন্তু সংস্থাটির চেয়ারম্যান কঠোর থাকায় শেষরক্ষা হয়নি।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুজ্জামানকেও যেকোনো সময় বরখাস্ত করা হচ্ছে বলে জানান বেবিচকের এক কর্মকর্তা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, খালেক ওপরের মহল থেকে নানাভাবে তদবির করেছিলেন বরখাস্তের হাত থেকে বাঁচতে। চেয়ারম্যানের কাছে একাধিক ফোন এসেছে। শহীদুজ্জামানও একইভাবে দেন-দরবার করেছেন। কিন্তু চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারকদের অবহিতও করেছিলেন।
বেবিচকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, আবদুল খালেক চাকরি জীবনের শুরু থেকেই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। চাকরিও পান তদবির ও অর্থের জোরে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার পর তার দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন সময়ে তিনি টাকা নিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, বেবিচকের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুজ্জামান ২০০০ সালের ২২ নভেম্বর চাকরিতে যোগ দেন। চাকরির কয়েক মাস পরই তিনি জড়িয়ে পড়েন টেন্ডার বাণিজ্যে। মোটা অঙ্কের অর্থ কামান। অন্তত ১৫০ কোটি টাকা নিয়ে ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি নিউইয়র্কের জ্যামাইকা অ্যাভিনিউতে একটি বাড়ি কিনেছেন। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের হরিকুমারিয়ার শহীদ বাচ্চু সরণি এলাকায়। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে শহীদুজ্জামান আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে ২১ দিনের ছুটি নেন। তারপর থেকে তিনি ‘পলাতক’।
