যুক্তরাষ্ট্র গঠনমূলক পরামর্শ দিলে গ্রহণ করব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:৫০ এএম

যুক্তরাষ্ট্র বন্ধু দেশ এবং তারা গঠনমূলক পরামর্শ দিলে বাংলাদেশ তা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লুর সফরের আগে গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি এসব বলেন।

বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত আতফুল হাই শিবলী স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আবদুল মোমেন আইপিএস এবং এর অর্থনৈতিক উপাদান সম্পর্কে কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, সরকার এখনো ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস) সম্পর্কিত বিষয়গুলো অধ্যয়ন করছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি এতটা স্বচ্ছ নয়। এটি কীভাবে সুফল বয়ে আনবে তা সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।’

ব্যুরো অব সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ান অ্যাফেয়ার্সের সহকারী সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্ত ডোনাল্ড লু তার ভারত সফর শেষ করে ১৪ জানুয়ারি (আজ) বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

মোমেন বলেন, ‘আমরা আমাদের বিষয়গুলো তুলে ধরব। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকা খুবই স্বাভাবিক।’

ডোনাল্ড লু জ¦ালানি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শ্রম এবং মানবাধিকারসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে বৈঠক করবেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, তিনি তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ এবং শ্রম ও মানবাধিকারের বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি শুনতে আলোচনা করতে বাংলাদেশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের নেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একই মূল্যবোধে বিশ্বাস করে এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে উৎসাহিত করে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ৩০ লাখ প্রাণ বিসর্জন দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, আমাদের নীতি ও মূল্যবোধ প্রায় একই।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, তিনি মার্কিন সহকারী সচিব লুর সফরকে দুপক্ষের মধ্যে নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সার্বিক পরিসরের বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, শুধু নির্বাচন ও মানবাধিকার বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে না।’ পররাষ্ট্র সচিব আরও বলেন, ‘এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে বাংলাদেশের কিছু প্রত্যাশা রয়েছে এবং মার্কিনপক্ষের বাংলাদেশ থেকে কিছু প্রত্যাশা থাকতে পারে। আমরা খোলাখুলি আলোচনা করব।’

আতফুল হাই শিবলী স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ড. মোমেন বলেন, ‘শিবলীর মনটা ছিল অনুসন্ধিৎসু। ছোট বোনের স্বামী হলেও তিনি ছিলেন আমার সহকর্মী ও বন্ধুর মতো। শিবলী একজন পরিপূর্ণ ও সফল মানুষ ছিলেন। তিনি যখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে অসুস্থ ছিলেন তখনো অন্যের উপকারের জন্য চিন্তা করতেন। সবসময় হাসিমুখে থাকতেন। তার মতো মানবোপকারী মানুষকে হারানো আমাদের পরিবার এবং দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আতফুল হাই শিবলীর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন, জাতীয় অধ্যাপক ডা. শাহলা খাতুন, অধ্যাপক আতফুল হাই শিবলীর সহধর্মিণী নাজিয়া শিবলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা খাতুন এবং আতফুল হাই শিবলীর সহকর্মী ও ছাত্রছাত্রীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত