ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কারাবন্দি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম রনি বাবার মৃত্যুর পর আবেদন করেও প্যারোলে মুক্তি পাননি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। গতকাল শনিবার সকাল ৬টার দিকে রাজধানী ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবা মো. মহসিন মোল্লা মারা যান। পরে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে মানবিক দিক বিবেচনায় রনির প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। কিন্তু গতকাল বিকেলে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশেষ প্রটোকল সুবিধা না পাওয়ায় প্যারোলে মুক্তি মিলছে না রনির। এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে বন্দি আছেন রনি।
তার আইনজীবী ব্যারিস্টার সালেহ আকরাম সম্রাট দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শনিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে কাশিমপুর কারাগারে থাকা অবস্থায় আব্দুর রহিম রনির বাবার মৃত্যুর খবর আসে। খবর পেয়ে আমরা কাশিমপুর কারাগারে যোগাযোগ করলে শনিবার সরকারি ছুটি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরবর্তীতে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে মানবিক দিক বিবেচনায় প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। সারা দিন পর অবশেষে বিকেলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশেষ প্রটোকল সুবিধা না পাওয়ায় রনির প্যারোলে মুক্তি মিলছে না।’
রনির বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জনি বলেন, ‘শুক্রবার রাতে বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থা গুরুতর হলে তাকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে আনা হয়। আনতে আনতে প্রায় রাত আড়াইটা বেজে যায়। এরপর ভোর আনুমানিক ৬টায় মারা যান বাবা। বাবার মৃত্যুর খবরটি সঙ্গে সঙ্গেই কাশিমপুর কারাগারে রনিকে জানানো হয়।’
তিনি কাঁদতে কাঁদতে আরও বলেন, ‘আমার বাবা তার ছোট ছেলে রনিকে নিয়ে বেশি টেনশন করতেন। সেই ছোট ছেলেই (রনি) বাবাকে শেষ দেখা দেখতে পেলেন না।’
রনিকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয় দাবি করে জনি বলেন, ‘রনির জন্যই হার্ট অ্যাটাক করেছে আমার বাবা। উনি খুব টেনশন করতেন ওকে নিয়ে। হঠাৎ বাবা মারা গেলেন, ছোট ভাই জেলে এখন আমার মাও খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এখানে তো আমাদেরকে বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত¡না দেওয়ার মানুষ আছে, আর জেলে রনিকে তো সান্তনা দেওয়ারও কেউ নেই।’
স্বজনরা জানান, রনির প্যারোলে মুক্তির জন্য দিনভর অপেক্ষা শেষে সন্ধ্যায় তার বাবাকে রামগঞ্জে দাফন করা হয়।
লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসাইন আকন্দ দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিনি রনিকে প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কোনো আবেদন পাননি। এই প্রতিবেদকের কাছ থেকেই প্রথম এমন কথা শুনলেন।
রনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় তাকে নয়াপল্টন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ছাত্রদলের নিন্দা ও প্রতিবাদ : এদিকে বাবার মৃত্যুর পর রনিকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল। বিবৃতিতে ছাত্রদলের শীর্ষ দুই নেতা রনির বাবা মো. মহসিন মোল্লার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানান।
