আপনার জিজ্ঞাসা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৪৫ এএম

কোরআন পাঠের জন্য অজু বা তায়াম্মুম দ্বারা নামাজ

মো. আতাউর রহমান, রামপুরা, ঢাকা

প্রশ্ন : কোরআন মাজিদ স্পর্শ, তেলাওয়াত এবং জিকির-আজকারের জন্য যে অজু বা তায়াম্মুম করা হয়, ওই অজু কিংবা তায়াম্মুম দিয়ে নামাজ আদায় করা কি শুদ্ধ?

উত্তর : কোরআন স্পর্শ, তেলাওয়াত ও জিকির-আজকারের জন্য যে অজু করা হয়, ওই অজু দিয়ে নামাজ আদায় শুদ্ধ। পক্ষান্তরে কোরআন মাজিদ স্পর্শ, তেলাওয়াত ও জিকির-আজকারের জন্য যে তায়াম্মুম করা হয়, ওই তায়াম্মুম দিয়ে নামাজ আদায় বিশুদ্ধ হবে না। বরং নামাজ আদায়ের জন্য নতুন করে তায়াম্মুম করতে হবে। ফতোয়া কাসেমিয়া : ৫/৫০

আজান ও ইকামতের জবাব

শরীফ আহমদ, টাঙ্গাইল

প্রশ্ন : আজান ও ইকামতের জবাব দেওয়ার বিধান কী? আজান ও ইকামতের জবাব কীভাবে দিতে হয়?

উত্তর : আজানের জবাব দুই ধরনের। এক. মৌখিক জবাব। দুই. আজান শুনে মসজিদে নামাজের জামাতে শরিক হওয়া। মৌখিক জবাব দেওয়া সুন্নত। জামাতে শরিক হওয়া ওয়াজিব। আজানের জবাব দেওয়ার সুন্নত পদ্ধতি হলোমোয়াজ্জিন আজানের যে শব্দগুলো বলবেন, শ্রোতারা জবাবে হুবহু সেই শব্দই বলবেন। তবে মোয়াজ্জিন হাইয়্যা আলাস সালাহ এবং হাইয়্যা আলাল ফালাহ বলার পর শ্রোতারা জবাবে বলবেন লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ। আজান সমাপ্ত হওয়ার পর দুরুদ শরিফ ও আজানের দোয়া পড়া। ফতোয়া কাসেমিয়া : ৫/৪৩৯-৪৪২

ইকামতের জবাব দেওয়া মোস্তাহাব। ইকামতের জবাব আজানের জবাবের মতোই। তবে ইকামতে কাদ-কামাতিস সালাহর জবাবে বলতে হবে আকামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা। বাহরুর রায়েক : ১/২৫৯

একাকী ফরজ নামাজে ইকামত

মো. আশরাফুল ইসলাম, চাঁদপুর

প্রশ্ন : ফরজ নামাজ একাকী পড়ার ক্ষেত্রে ইকামত বলা কি জরুরি? ইকামত না বললে কি নামাজ হবে?

উত্তর : ফরজ নামাজ একাকী পড়ার ক্ষেত্রে ইকামত বলা জরুরি নয়, বরং উত্তম। এ ক্ষেত্রে ইকামত না বললেও যথাযথভাবে নামাজ আদায় হয়ে যাবে। বাদায়েউস সানায়ে : ১/৩৭৭

মুসাফির ব্যক্তির জন্য একাকী নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে ইকামত বাদ দেওয়া মাকরুহ। মুকিম ব্যক্তির জন্য ঘরে একাকী নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে ইকামত ছেড়ে দেওয়া মাকরুহ নয়। ইকামত বলা উত্তম। আর মুকিম ব্যক্তির জন্য মসজিদে একাকী নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে ইকামত বাদ দেওয়া উত্তম। ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া : ২/১৫১

টাখনুর নিচে লুঙ্গি রেখে নামাজ

ইমরান হুসাইন, কিশোরগঞ্জ

প্রশ্ন : আমরা জানি, পুরুষের জন্য টাখনুর নিচে প্যান্ট, পায়জামা, লুঙ্গি ইত্যাদি পরা হারাম বা কবিরা গোনাহ। নামাজ পড়ার সময় কোনো ব্যক্তির প্যান্ট, পায়জামা বা লুঙ্গি যদি টাখনুর নিচে থাকে তাহলে কি তার নামাজ আদায় হবে?

উত্তর : নামাজের ভেতরে এবং নামাজের বাইরে প্যান্ট, পায়জামা, লুঙ্গি ইত্যাদি পুরুষের নিম্নাঙ্গে পরিধেয় বস্ত্র বা লুঙ্গি ইচ্ছাকৃতভাবে টাখনুর নিচে নামিয়ে রাখা কবিরা গোনাহ। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে টাখনুর নিচে ইজার রেখে নামাজ পড়ে তাহলে তার নামাজ মাকরুহে তাহরিমি হবে। তবে নামাজ পুনরায় আদায় করার প্রয়োজন নেই। আর যদি ভুলবশত টাখনুর নিচে লুঙ্গি থেকে যায় তাহলে সে ক্ষেত্রে নামাজ মাকরুহে তাহরিমি হবে না। কিন্তু এ বিষয়টি স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক তা টাখনুর ওপর উঠিয়ে নেওয়া আবশ্যক। ফতোয়া মাহমুদিয়া : ৬/৬৫৪

উত্তর প্রদান : মুহাম্মদ আতিকুর রহমান

জামিয়া আরাবিয়া মিফতাহুল উলুম, মাসকান্দা, ময়মনসিংহ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত