এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাঁদাবাজি-নির্যাতন করছে এপিবিএন

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:৩০ এএম

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি এবং স্বেচ্ছাচারীভাবে তাদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গতকাল মঙ্গলবার এইচআরডব্লিউর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ করা হয়েছে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে নিপীড়নের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত করার জন্য বাংলাদেশি কর্র্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করতে দাতা দেশগুলোর সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোয় মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় আশ্রয়শিবিরে রয়েছে এপিবিএনের ক্যাম্প। এপিবিএন বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ একটি শাখা।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, ২০২০ সালের জুলাইয়ে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্ব পায় এপিবিএন। সেখানকার শরণার্থী ও মানবিক সহায়তাকর্মীরা জানিয়েছেন, এপিবিএন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এটা হয়েছে ক্রমে পুলিশের নিপীড়ন বাড়তে থাকা এবং শিবিরে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে।

এ বিষয়ে এইচআরডব্লিউর এশিয়াবিষয়ক গবেষক শায়না বাউকনার বলেন, ‘কক্সবাজার আশ্রয়শিবিরে পুলিশের নিপীড়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এমন এক দুর্দশায় ফেলেছে যে, যাদের তাদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা তাদের হাতেই তারা আক্রান্ত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কর্র্তৃপক্ষের অবিলম্বে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন কর্মকর্তাদের ব্যাপক পরিসরে চাঁদাবাজি ও ভুল আটকের অভিযোগগুলোর তদন্ত করা এবং দায়ী প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’

এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে এপিবিএনের ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের ওপর গুরুতর নির্যাতন ও হয়রানির অন্তত ১৬টি ঘটনা তাদের নজরে এসেছে। এ বাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গাদের কাছে ঘুষ দাবি করেছেন। ঘুষ দিতে না পারলে আটকের হুমকিও দিয়েছেন। আশ্রয়শিবিরে কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার রয়েছে, এপিবিএনের হাতে অন্যায়ভাবে আটক হওয়া স্বজনদের ছাড়াতে স্বর্ণালংকার বিক্রি কিংবা অর্থ ধার করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

তবে এপিবিএনের কমান্ডার সৈয়দ হারুন-উর-রশিদ এএফপিকে বলেছেন, এইচআরডব্লিউর এ প্রতিবেদন প্রশ্নবিদ্ধ। তার মতে, অপরাধীরা মানবাধিকার সংগঠনটিকে ভুল তথ্য-উপাত্ত দিয়েছে। আর এসবের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করেছে এইচআরডব্লিউ। এ প্রতিবেদন অপরাধীদের সুবিধা দেবে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সেটা তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন এপিবিএনের এ কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত