কক্সবাজারের উখিয়ার পার্শ্ববর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তে শূন্যরেখায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। ভোর থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান স্বাধীনতাগামী সংগঠন আরএসওর সাথে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আল ইয়াকিনের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি চলে।
উভয় পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করে। সেই সঙ্গে শিশুসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ দুজন উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান।
নিহতরা হলেন উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হামিদ উল্লাহ। তিনি আরএসওর সক্রিয় সদস্য। বাকি দুজন হলেও এখনও তাদের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। গুলিবিদ্ধরা হলেন টেকনাফ ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৫ ব্লকের বাসিন্দা দিলদার আহমদের ছেলে মুহিব উল্লাহ (২৫) ও তুমব্রু কোনারপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা নুর হোসেনের ছেলে মো. হোসেন (১২)।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের কোনারপাড়ায় ক্যাম্প এলাকায় সকাল ৬টার পর থেকে শুরু হওয়া গোলাগুলি বিকাল পর্যন্ত চলে।
জানা যায়, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার রাউন্ড বিনিময় হয়। এ ছাড়া মাঝে মধ্যে বিকট শব্দ ভেসে আসছে এপারে। তুমব্রু বাজারে অন্যান দিনের তুলনায় লোকসমাগম কম। উখিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষঅকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে।
একটি নির্ভররযোগ্য সূত্র জানায়, সকাল ৬টা ২০ মিনিটের সময় তুমব্রু কোনারপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরএসওর সশস্ত্র সদস্যরা উভয় দিক থেকে ঘেরাও করে আরসার ওপর অর্তিকিত হামলা চালায়। এর কিছুক্ষন পর আরএসওর সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। এ সময় আরসার সাত সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি ৯এমএম পিস্তল ও ১টি ওয়াকিটকি জব্দ করতে সক্ষম হয়। তবে আটককৃত আরসার সদস্যদের নাম -ঠিকানা জানাতে পারেনি সূত্রটি।
এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিজিবির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
বিকাল সাড়ে ৫টার পর থেকে গোলাগুলির শব্দ কিছুটা কমে আসে।
স্থানীয়রা বলছেন, ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা গোলাগুলি চলে। এরপর থেকে থেমে গোলাগুলি চলছে। সকালের দিকে একজনের লাশ উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালের নিয়ে যাওয়া হয়। এর সাথে একজন গুরুতর আহত ব্যক্তি ছিলেন। তবে তাদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।
ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, গোলাগুলির শব্দ শুনেছি। তবে হতাহতের খবর জানি না। এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমেন শর্মা বলেন, বিস্তারিত খবর নিয়ে জানাতে হবে। তবে স্থানীয়দের দাবি- মিয়ানমানের দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে ওই গোলাগুলি হচ্ছে।
