‘মনে মনে ভাবতাম ধর্ষণ মামলার আসামি হয়েই হয়তো মরতে হবে। আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া মৃত্যুর আগেই আমাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।’ গতকাল মঙ্গলবার সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্ত দাশ রায় দেওয়ার পর আইনজীবীর কক্ষে বসে কথাগুলো বলছিলেন ৮৪ বছরের বৃদ্ধ দরছ মিয়া। মামলা থেকে খালাস পেয়ে আনন্দে তার চোখ দুটো টলমল করছিল।
দরছ মিয়া বলেন, ‘কবরে যাওয়ার বয়সে এসে ধর্ষণের মতো একটা খারাপ মামলায় জড়িয়ে পড়ায় ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনিদের কাছে নিজেকে খুব ছোট মনে হতো।’
দরছ মিয়ার বাড়ি বাহুবলের পুটিজুরী ইউনিয়নের হরিশচন্দ্রপুর গ্রামে। পেশায় কৃষক। তার ৫ ছেলে ও ৪ মেয়ে। আছে ১২ জন নাতি-নাতনি।
১৯৯৯ সালের ১৮ জুলাই আদালতে একটি ধর্ষণ মামলা হয় তিনিসহ আরও দুজনের বিরুদ্ধে। মামলাটি করেন একই গ্রামের রাজা মিয়ার স্ত্রী লতিফা বিবি। ওই মামলায় অপর দুই আসামি হলেন দরছ মিয়ার খালাতো ভাই মঙ্গলকাপন গ্রামের বুলু মিয়া, একই গ্রামের জনৈক ইমান উল্লা (৩৫)।
মামলার ঘটনার সময় ১৯৩৭ সালে জন্ম নেওয়া দরছ মিয়ার বয়স ছিল ৬২ বছর। দরছ মিয়া বলেন, ‘লতিফার স্বামী রাজা মিয়া আমার এক কন্যাকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করে। বিয়ে মেনে না নেওয়ায় রাজা মিয়া আমার বিরুদ্ধে এর আগে মিথ্যা মামলা দিয়ে হেনস্তা করে। পরে কন্যা স্বামীর সংসার থেকে চলে আসে। রাজা মিয়া পেশায় একজন গাছচোর ও জুয়াড়ি ছিল।’ তিনি বলেন, গ্রামের কতিপয় অসৎ লোকের সহযোগিতায় রাজা মিয়ার বর্তমান স্ত্রী লতিফা বিবি বাদী হয়ে ১৯৯৯ সালের ২১ জুলাই আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় ওই বছরের ১৮ জুলাই রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে দরছ মিয়া, বুলু মিয়া ও ইমান আলী তাকে ধরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। ২০০১ সালের ২৪ জানুয়ারি পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মামলা চলাবস্থায় দুই বছর আগে আসামি বুলু মিয়া মারা যান।
দরছ মিয়া জানান, প্রায় ২৪ বছর আইনি লড়াইয়ে ১০-১২ কে (৩৩ শতাংশে ১ কে) জমি বিক্রি করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো পাল্টা মামলা করব না। আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রেখেছি। আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বাদী লতিফা বিবি ভালো নেই। এখন স্বামী হত্যা মামলায় ছেলে জুয়েলকে নিয়ে নিজেই পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’
