বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মালয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী সিংহনাচ

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৫৯ এএম

চান্দ্র নববর্ষ উৎসবকে ঘিরে চীনা সংস্কৃতির সিংহনাচ মালয়েশিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশটির সিংহনাচের দলগুলো রেকর্ড গড়ছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। লিখেছেন নাসরিন শওকত

চীনা ঐতিহ্য

মারিয়াম আব্দুল নাজর। বয়স ২৭। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের বাসিন্দা তিনি। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়ায় সাত-পাঁচ না ভেবেই যোগ দিয়েছেন কাজে। মারিয়াম মুসলিম পারিবারের মেয়ে। তার একমাত্র প্যাশন সিংহনাচ। মারিয়ামের যখন বয়স ১৩ , তখন থেকেই তিনি সিংহনাচ শেখা শুরু করেন। সে সময় তাকে নাচের প্রশিক্ষণে সঙ্গ দিত তার ১৪ বছরের ভাই। মালয়েশিয়ার সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী সিংহ নাচের দল মুহিবাহ লায়ন ডান্স ট্রুপ। ১৯৮৪ সালে দেশের প্রথম বহুজাতিক নাচের এই দলটি গড়ে ওঠে। মুহিবাহ নামটি এসেছে মালয় শব্দ ‘মুহিব্বাহ’ থেকে, যার অর্থ বন্ধুত্ব বা বন্ধুত্বের অনুভূতি। সিংহ নাচের প্রতি নিজের অনুরাগের কথা তুলে ধরে সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরাকে মারিয়াম নাজর বলেছেন, ‘এই নাচের সংগীত থেকে আমি আমার শক্তি সঞ্চয় করতাম। বিশেষ করে ড্রামের মূর্ছনা আমাকে উজ্জীবিত করত বেশি। বড় বড় চোখের সিংহগুলোকে তখন দেখতে বেশ সুন্দর লাগত আমার।’ মারিয়াম লায়ন ডান্স অ্যাসোসিয়েশন ও খুয়ান লোক ড্রাগন দলের নাচের প্রশিক্ষক। এ দলে তার সতীর্থদের মধ্যে যেমন রয়েছে মালয়েশিয়ার জাতিগত সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয় নৃত্যশিল্পী, তেমনি আরও আছে জাতিগত সংখ্যালঘু ভারতীয় ও অল্প কিছু বিদেশিও। নবজাতকের মা হওয়ার কারণে মারিয়ামের জন্য সপ্তাহের তিন দিন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও সময় বের করে প্রশিক্ষণে সময় দিতে হয় তাকে। কারণ সময়টা এখন যে ‘লুনার নিউ ইয়ার’ বা চান্দ্র নববর্ষ। মালয়েশিয়ার সিংহের নাচ দলগুলোর জন্য সবচেয়ে ব্যস্ততার সময় এটি।

চান্দ্র নববর্ষ

‘লুনার নিউ ইয়ার’ বা চান্দ্র নববর্ষ মূলত চীনাদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বছর আগে থেকে চীনে এ উৎসব পালন শুরু হয়। তার পর থেকে প্রতি বছর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে পালিত হয়ে আসছে এই উৎসব। এ বছরের ২২ জানুয়ারি থেকে চান্দ্র নববর্ষ উৎসব শুরু হয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি ল্যান্টার্ন ফেস্টিভালের মাধ্যমে শেষ হবে এ নববর্ষ উদযাপন। যা পালন করবে বিশ্বের প্রায় একশো কোটি মানুষ। চীনের পাশাপাশি এই নববর্ষ উদযাপন চলে মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, হংকং, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং কোরিয়াতেও। নতুন বর্ষবরণের ব্যাপক প্রস্তুতিতে ধুম পড়ে ঘর সাজানো ও কেনাকাটার। মার্কেটে ও রাস্তায় বসে বিভিন্ন ধরনের সাজসজ্জার সামগ্রী, নতুন পোশাক, আতশবাজিসহ বাহারি জিনিসের দোকান। নববর্ষের এবারের উৎসবকে ঘিরে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকার সব দোকানপাট, বাজার, দাপ্তরিক ও আবাসিক ভবন বিভিন্ন সাজে সাজানো হয়েছে। এর বৈচিত্র্যে প্রাধান্য পেয়েছে আনন্দ, শান্তি ও সুখের প্রতীক লাল রঙের গোলাকৃতির লণ্ঠন। লোকনৃত্য ও দেশীয় ভোজের আয়োজন চলে। যা দেখতে খোলা আকাশের নিচে ভিড় করছেন হাজারো মানুষ। চীনা সংস্কৃতিতে খরগোশ দীর্ঘায়ু, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হওয়ায় এবারের থিম ‘ইয়ার অব র‌্যাবিট’। চীনা নববর্ষে, একেক নতুন প্রাণীকে নিয়ে আসা হয় পরের বছরের প্রতীক হিসেবে। এভাবে ১২ বছরে ১২ প্রাণী চক্র হিসেবে প্রতীক হয়ে ওঠে।

যেভাবে এলো সিংহনাচ

এক হাজার বছর আগের কথা। ঐতিহ্যগতভাবে চীনে প্রথম শুরু হয়েছিল ‘সিংহনাচ’ বা লায়ন ডান্স। পরবর্তী সময়ে জাতিগত চীনা সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে এই নাচের প্রচলন শুরু হয়। এর মধ্যে মালয়েশিয়াই একমাত্র দেশ, যারা সিংহনাচে গতি নিয়ে এসে অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি। সিংহনাচ চীনা সংস্কৃতির সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্য ও ঐতিহ্যবাহী নাচ। তাদের কাছে এ নাচ সৌভাগ্য বয়ে আনার প্রতীক। মূলত চীনাদের ‘লুনার নিউ ইয়ার’ উৎসবকে ঘিরেই লোকজ এই নাচের প্রচলন। তবে চান্দ্র নববর্ষের সময় অনুষ্ঠিত হলেও ধর্মীয় উৎসবের অংশ হিসেবে বছরজুড়েই অনুষ্ঠিত হয় এই নাচ। তাই সিংহনাচ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী জাতিগত চীনা সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এক সময় হারিয়ে যেতে বসেছিল এই নাচ। কিন্তু পরে চীনা অভিবাসীদের কল্যাণে ১ হাজার বছরের প্রাচীন সিংহ নাচের আবার বিকাশ ঘটে। চীনে যখন সাংস্কৃতিক বিপ্লব চলছিল তখন সিংহ নাচকে নিষিদ্ধ করা হয়। ঠিক সেই সময়েই প্রবাসে থাকা ওই চীনা ও তাইওয়ানিজরাই লোকজ এই নাচের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে তোলেন। এই নাচের সঙ্গে সে সময় তারা নিজেদের কিছু মুদ্রাও যোগ করেছিলেন। সিংহনাচে স্ট্যান্ট শৈলী আনার জন্য মালয়েশিয়াকেই

কৃতিত্ব দেওয়া হয় বেশি। যেখানে নৃত্যশিল্পীরা অনেক উঁচু সরু পুলের মধ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে কসরত দেখিয়ে থাকেন। অনেক সময় আবার পানির ওপর দিয়ে লাফিয়ে চলতে হয় তাদের। এক সময় সিংহনাচ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন জনপ্রিয় কৌশলের এই নাচটি বিশে^র বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নাচা হচ্ছে। এমনকি চীনেও আবার ফিরে গেছে তা। তবে সিংহনাচ মালয়েশিয়ায় এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে, তা এখন আর জাতিগত চীনা শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মালয়েশিয়ায় নতুন এক চেতনা জাগিয়ে তুলেছে ঐতিহ্যবাহী এই নাচ।

সিংহনাচ

প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের ২২ তারিখ ‘চান্দ্র নববর্ষ’ উদযাপন হয়। এ উপলক্ষে দেশে দেশে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী সিংহনাচ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহুজাতিক সংস্কৃতির দেশ মালয়েশিয়া, যে সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য এক অংশ সিংহনাচ। যার উপস্থাপনা বেশ বর্ণিল, জাঁকজমকপূর্ণ ও জোরালো। বর্ণিল সিংহের পোশাক, বাদ্যযন্ত্র ও নৃত্যশিল্পীদের বাহারি পরিবেশনা ঐতিহ্যবাহী এই নাচের উপকরণ। নৃত্যশিল্পীদের কাছে সিংহ নাচের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মুখোশের মূল্য অনেক বেশি। কারণ সেগুলো আসল মুখোশ থেকে বেশ হালকা উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়। প্রতিযোগিতার সিংহ নাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন এর বিচারক।

এই নাচে সিংহকে উপস্থাপনের জন্য সিংহের আদলে বানানো হয় নানা রঙের বর্ণিল জামা। যার মাথার অংশে রাখা হয় বিশালাকৃতির সিংহের মুখ। আর তার বড় বড় দুই চোখ আকৃষ্ট করে দর্শকদের। সিংহ নাচের রয়েছে প্রধান দুটি রীতি। এর একটি উত্তরাঞ্চলের আর অন্যটি দক্ষিণের। সাধারণত দুজন নৃত্যশিল্পী রঙিন সেই জামা পরে সিংহের ভূমিকায় নাচতে থাকেন। ঐতিহ্যবাহী ড্রাম বা ঢোলের বাজনার তালে তালে চলতে থাকে এই নাচ। চোখের ঝুলানো পাপড়ি ও বড় লাল মুখের দৈত্যাকার সিংহের মুখোশকে ঠিক রাখতে থাকেন ব্যস্ত সামনের নৃত্যশিল্পী। আর শরীর ও পেছনের দুই পা দিয়ে নানা ভঙ্গি ও ছন্দে নেচে চলেন পেছনের নৃত্যশিল্পী।

এদিকে সিংহনাচ পুরোমাত্রায় দলীয় অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে। দলীয় এই নাচে বড় সিংহের আদলে তৈরি পোশাক একসঙ্গে পরেন একাধিক নৃত্যশিল্পী। তখন সিংহের নানা ভঙ্গিমার সঙ্গে চলে বাহারি নৃত্য পরিবেশনা। ড্রাম ও মন্দিরার বাজনার তালে তালে একসময় অনেক বেশি জোরালো ও মজার হয়ে ওঠে নাচ। দলীয় এই নাচের শেষ পর্যায়ে এসে দর্শকদের উদ্দেশ্যে কমলা ছুড়ে মারে দলটি। আর জবাবে তাদের লাল প্যাকেটের এক উপহার সিংহের মুখে গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করে অনেকেই। চান্দ্র নববর্ষের সময় অনেক নৃত্যশিল্পীই কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা একের পর এক এই নাচ নাচেন।

মালয়েশিয়ার সিংহনাচ

সিংহনাচ মালয়েশিয়ায় তুমুল জনপ্রিয়। তাই এখন কুয়ালালামপুরকে সিংহ নাচের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উঁচু পুলের ওপর সিংহনাচ মালয়েশিয়ার নতুন সংযোজন। ১৯৯০-এর দশকের কথা। তখন মালয়েশিয়ার সিও হো ফিউ এই নাচের জন্ম দেন। পরবর্র্তী সময়ে তিনি একাধিক পুলের সমন্বয়ে অ্যাক্রোবেটিক সিংহ নাচের প্রচলন করেন, যা বিশ্বজুড়ে অ্যাক্রোবেটিক সিংহ নাচের মানদ-ে রূপ নিয়েছে। অ্যাক্রোবেটিক সিংহ নাচের জনক হওয়ায় সিওকে সম্মানার্থে ‘মাস্টার সিও’ বলে ডাকা হয়। এছাড়াও তিনি সিংহের পোশাকের মাথার একজন দক্ষ কারিগর ও বিশ্বখ্যাত একজন কোচও। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ও  কুয়ালালামপুরে তার অসংখ্য শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে অন্যতম হারলেন লি। যিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের জি ইয়ুং মার্শাল আর্টস- প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। প্রতি বছর মালয়েশিয়ার একটি দলকে প্রশিক্ষণ দিতে অন্তত একবার সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে আসেন লি। নিজের সম্প্রদায়ের এই ঐতিহ্যবাহী নাচ নিয়ে উচ্ছ্বসিত লি বলেছেন, এখন প্রায় প্রত্যেক দেশেই অন্তত একটি করে সিংহ নাচের দল আছে। এটি বেশ বিস্ময়কর এই ভেবে যে, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের পটভূমি অন্য সংস্কৃতিকেও স্পর্শ করেছে। এ জন্য আমি গর্বিত।’

শেষ কয়েক বছর ধরে লোকজ এই নাচগুলোতে অ্যাক্রোবেটিক সিংহনাচ বেশ প্রাধান্য পাচ্ছে। যাতে মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যের প্রতিফলন রয়েছে। উঁচু পুলের ওপর করা অ্যাক্রোবেটিক সিংহনাচ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জের। প্রতিটি পুলের উচ্চতা কমপক্ষে ১ থেকে ৩ মিটার। এই নাচের শিল্পীদের খুব চটপটে ও শক্তিশালী হতে হয় এবং তাদের পায়ের প্রতিটি মুদ্রা সঠিকভাবে ও একসঙ্গে নিতে হবে। একটি ভুল পায়ের মুদ্রা বা ভুল সময়ে ফেলা পা গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে। এই নাচে নৃত্যশিল্পীরা নিজেদের মাটি থেকে দুই থেকে তিন মিটার শূন্যে তুলে পুলের ওপর নাচতে থাকেন। দুঃসাহসিক ও রোমাঞ্চকর এই নাচের মধ্য দিয়ে তারা মনোরঞ্জন করে চলেন দর্শকদের। মালয়েশিয়ার অ্যাক্রোবেটিক সিংহ নাচের এই দলগুলোকে বিশে^র সেরা দল হিসেবে মানা হয়। এদের মধ্যে তরুণ নৃত্যশিল্পীরা নাচের এই মুদ্রা রপ্ত করতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যান।

উৎসবের আমেজ

ঐতিহ্যগতভাবে চীনা সংস্কৃতিতে সিংহকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মানা হয়। বিশ্বাস করা হয়, সিংহের এই নাচ অশুভ ও দুর্ভাগ্যকে তাড়িয়ে দিয়ে সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে। চান্দ্র নববর্ষকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়াজুড়ে চলে এই সিংহনাচ। এ সময়জুড়ে চীনা পরিবারগুলো নাচের দলগুলোকে ভাড়া করে আনে এবং তাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত এই নাচের আয়োজন করে থাকে। কারণ তাদের বিশ্বাস, সিংহনাচ বছরের বাকি সময়ের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনবে। এমনকি এ সময় দেশটির বিভিন্ন বিপণি বিতানের ভেতরে ও তার সামনের রাস্তায় রীতিমতো ১৫ দিন টানা চলে সিংহ নাচের অনুষ্ঠান । আবার চান্দ্র নববর্ষের সপ্তাহগুলোতেও এই নাচের শো-এর আয়োজন করে থাকে তারা।  কুয়ালালামপুরের আরেক বাসিন্দা সারাহ থিয়াং। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা সিংহনাচে পারদর্শী। প্রতি চান্দ্র নববর্ষে সারাহ ও তার পরিবার কমপক্ষে একটি করে নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করে। বিপণি বিতানে একটি অ্যাক্রোবেটিক সিংহনাচ দেখতে দেখতে সারাহ বলেছেন, ‘এই নাচ চীনা সংস্কৃতির একটি অংশ। মজার এই নাচ আমাকে উৎসবের আমেজ এনে দেয়। উঁচু পুলের ওপর তাদের (সিংহ নাচের নৃত্যশিল্পীদের) এই নাচ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আমাকে কখনোই স্নায়ু চাপে ভোগায় না। আমি তাদের নিয়ে চিন্তিত নই। কারণ তাদের নৈপুণ্যের ওপর আস্থা আছে আমার।’

সুরই হৃৎস্পন্দন

কুয়ালালামপুরের খুয়ান লোক নাচের দলের মহাসচিব ও কোচ এরিক ফং। যিনি সিংহ নাচের প্রতিযোগিতার একজন বিচারকও। তার মতে, সিংহনাচ শুধুমাত্র কঠিন শারীরিক কসরত প্রদর্শনের শিল্প তানয়, এটি নৈপুণ্য ও ভাবাবেগ প্রকাশেরও মাধ্যম। এই নাচে কানের ঝাঁকুনি, চোখের পাতার ঝাঁকুনি এসব অঙ্গভঙ্গি খেলাধুলা, উত্তেজনা বা উগ্রতা প্রকাশের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু এরিক ফং বলেছেন, ‘খুয়ান লোক নাচে, সব সিংহ নাচের শিল্পীদের এই নাচের বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখতে হয় আগে। এই বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে রয়েছে ড্রাম, মন্দিরা বা করতালি এবং ঘণ্টা বা ঝাঁঝর। সিংহনাচে সুরই হচ্ছে তার হৃৎস্পন্দন। এই নাচের কোনো শর্টকাট নেই।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত