মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পছন্দের প্রার্থীকে নিতে অনিয়মের পসরা!

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:৩৯ এএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগে আলোচিত এক নির্দিষ্ট প্রার্থীকেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে যাচ্ছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন। তাকে নিতে উপাচার্য একের পর এক অনিয়মের পসরা সাজিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। লিখিত পরীক্ষা শেষে শিক্ষক পদে এ নিয়োগে আজ রবিবার মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) গ্রহণের কথা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতার সুপারিশের কারণে ওই প্রার্থীকে নিতে উঠেপড়ে লেগেছেন উপাচার্য। ওই প্রার্থীর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফল কুবি নির্ধারিত মানের চেয়ে কম। ফলে তাকে নিতে বিশেষ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কুবি কর্র্তৃপক্ষ। ওই বিজ্ঞপ্তিতে অননুমোদিত একটি অনুবিধি যোগ করা হয়। ওই অনুবিধিতে উল্লিখিত যোগ্যতাগুলো রয়েছে শুধু নির্দিষ্ট ওই প্রার্থীর। গত ১৭ জানুয়ারি ওই বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে লিখিত পরীক্ষা হয়। লিখিত পরীক্ষা থেকে ভাইভায় অংশ নেওয়ার জন্য চারজন প্রার্থীকে মনোনীত করা হয়। ওই চারজনের মধ্যে নির্দিষ্ট ওই প্রার্থীও রয়েছেন। এ ছাড়া বিভাগীয় পরিকল্পনা কমিটির সুপারিশ করা তালিকায় ওই প্রার্থীর নাম না থাকলেও রেজিস্ট্রার দপ্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য করে তালিকায় ওই প্রার্থীর নাম যুক্ত করে।

এদিকে পরীক্ষার্থীকে চিহ্নিত করা যাবে এমন কিছু লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রে উল্লেখ করা যাবে না এমন নির্দেশনার পরও ওই প্রার্থী তার উত্তরপত্রে বিশেষ ‘চিহ্ন’ ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা চলাকালীনই বিষয়টি ধরা পড়লে পরে পর্যালোচনার জন্য হল পরিদর্শকই পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রে তার স্বাক্ষর নিয়ে রাখেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ, উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের শুধু তাদের অংশটুকুই মূল্যায়ন করতে দেওয়া হয়েছে। সার্বিক মূল্যায়ন নিয়ে তাদের থেকে কোনো কিছু জানতে চাওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে নিয়োগ বোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে এ প্রতিবেদকের। তাদের অন্তত দুজন সার্বিক মূল্যায়নের বিষয়ে তাদের কোনো মতামত জানতে চাওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন।

সাধারণত নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা মিলে কাটমার্ক বা পাস নম্বর নির্ধারণ করে থাকেন। নিয়োগ বোর্ডের সভার কার্যবিবরণীতে তা উল্লেখ থাকে। ন্যূনতম ওই নম্বর পাওয়া প্রার্থীদেরই পরবর্তীকালে ভাইভার জন্য ডাকা হয়। এর ফলে কে কত নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ বা অনুত্তীর্ণ হলো তা জানা যায়। তবে মার্কেটিং বিভাগের কাটমার্ক কত নির্ধারিত হয়েছিল এ বিষয়ে জানেন না বোর্ড সদস্যরা। উপাচার্য নিজের মতো করেই প্রার্থীদের ভাইভার জন্য মনোনীত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বোর্ড সদস্যদের একজন এ বিষয়ে তার থেকে কিছু জানতে চাওয়া হয়নি মন্তব্য করে আর কথা বলতে রাজি হননি।

এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষা থেকে যেসব প্রার্থীকে ভাইভার জন্য মনোনীত করা হয়, তাদের তালিকা প্রকাশ্যে দেওয়ার রীতি থাকলেও কুবি উপাচার্য এ ক্ষেত্রেও বিরত ছিলেন। মনোনীতদের শুধু রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে ফোন করে ভাইভার তারিখ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনিয়মের সুযোগ বিস্তৃত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে কুবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের কথা বলে অযোগ্যদের নিতে যেরকম অনিয়ম করছেন, তাতে শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীদের অশ্রদ্ধা তৈরি হবে। সর্বোচ্চ নির্বাহী হয়ে তিনি একের পর এক অনিয়ম করে যাচ্ছেন। যা মূলত এ বিশ্ববিদ্যালয়কেই পিছিয়ে দেবে।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

শিক্ষক নিয়োগের বিতর্কিত এ প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ এলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত