মাঠ জরিপ ছাড়াই আগের মাস্টারপ্ল্যান হয়েছিল

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৩৯ পিএম

এম জহিরুল আলম দোভাষ

চেয়ারম্যান, সিডিএ

দেশ রূপান্তর : অতীতে মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠছে। এসব প্রশ্ন কি ঠিক আছে বলে মনে করছেন?

এম জহিরুল আলম দোভাষ : সঠিক। কোনো প্ল্যান যখন সঠিকভাবে করা হবে না, আর তা যখন মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে তখন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। চট্টগ্রাম মহানগরীর অতীতের মাস্টারপ্ল্যান নিয়েও যথারীতি এমন ঘটনা ঘটায় এখন প্রশ্ন উঠছে।

দেশ রূপান্তর : ১৯৯৫ সালে প্রণীত ২০ বছর মেয়াদি সেই মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে প্রশ্ন উঠল কেন?

জহিরুল আলম দোভাষ : আগেকার মাস্টারপ্ল্যান টেবিলে বসে বিএস শিটম্যাপ দেখে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই ভূমি এই কাজে, এখানে এটা করা হবে, ওখানকার ভূমি এ কাজের জন্য বরাদ্দ থাকবে। কিন্তু মাস্টারপ্ল্যান তো বিশাল একটি কাজ। সেসব এলাকার ভূমি এখন কী কাজে ব্যবহার হচ্ছে, আগামীতে ওই ভূমি ওখানকার মানুষ কীভাবে ব্যবহার চায় এর মধ্যে একটি সমন্বয় দরকার। অতীতের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে ভূমি মালিকদের যেমন মতামত নেওয়া হয়নি, তেমনিভাবে চট্টগ্রামে অনেকগুলো সরকারি সংস্থা রয়েছে, সেসব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পনা তৈরি করা হয়নি। যথারীতি তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

 দেশ রূপান্তর : মাস্টারপ্ল্যান তৈরিতে এবার আপনি কোন পদ্ধতিতে এগোচ্ছেন?

জহিরুল আলম দোভাষ : মাস্টারপ্ল্যানের কার্যক্রম প্রথমে আটকে গিয়েছিল। আমি দায়িত্বে আসার পর মাঠপর্যায়ে প্লট বাই প্লট সার্ভের মাধ্যমে পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিই। এজন্য উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের সব সেবা সংস্থা ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করতে বলেছি। সবার সঙ্গে কথা বলে একটি বাস্তবধর্মী মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সেক্টরের বিজ্ঞজনদের সঙ্গে অংশীজন সভা করা হয়েছে। আরও ডিটেইল আকারে সভা করতে ওয়ার্ডপর্যায়েও বৈঠক করা হবে।

দেশ রূপান্তর : চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে। সেসব মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে আপনাদের মাস্টারপ্ল্যানের সমন্বয় কীভাবে ঘটাবেন?

জহিরুল আলম দোভাষ : অন্যান্য সংস্থার মাস্টারপ্ল্যানগুলো এই মাস্টারপ্ল্যানে যুক্ত করা হবে। তাতে তাদের পরিকল্পনাগুলোও থাকবে। পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাদের পরিকল্পনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

দেশ রূপান্তর : কিন্তু মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের চেয়ে বাস্তবায়ন তো অনেক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আপনার প্রস্তুতি কী?

জহিরুল আলম দোভাষ : এজন্য আমরা জনবল কাঠামো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছি। অনুমোদন পেলে জনবলের সমস্যা আর থাকবে না। তখন তা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মাস্টারপ্ল্যানে পরিবর্তন আনতে পাঁচ বছর পর পর তা পর্যালোচনা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত