তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, অনেকের মতেই নির্বাচনের বছর বলে বিশ্ববেনিয়াদের প্রেসক্রিপশনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশকে একধাপ নামানো হয়েছে। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। খবর বাসস।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বিশ্ব দুর্নীতি সূচক-২০২২ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের একধাপ পিছিয়ে পড়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান বলেন, ‘অনেকেই বলছেন, এটা তো নির্বাচনের বছর, এ জন্য বিশ্ববেনিয়াদের প্রেসক্রিপশনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এক পয়েন্ট কমিয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের আগে তো আর কোনো প্রতিবেদন হবে না। আগামী বছর আবার জানুয়ারিতে বা ফেব্রুয়ারিতে যখন প্রতিবেদন হবে তখন নির্বাচন হয়ে যাবে।’
‘ইদানীংকালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের কার্যক্রম অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে যখন মিথ্যা অভিযোগ উপস্থাপন করা হলো, তখন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল আগ বাড়িয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দুর্নীতি হয়েছে বলে। পরে দেখা গেল, দুর্নীতি তো হয়ইনি বরং কানাডার আদালতে বিশ্বব্যাংক হেরে গেছে। বিশ্বব্যাংক আবার এসে প্রস্তাব করেছে যে, তারা অর্থায়ন করতে চায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা নেননি। কিন্তু ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চায়নি।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগে বিএনপির সময় পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে দেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, চারবার এককভাবে, একবার যুগ্মভাবে আফ্রিকার একটি দেশের সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি দমন করার জন্য জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছেন। বাংলাদেশে দুর্নীতি কমেছে।’
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিএনপির সমালোচনা প্রসঙ্গে ড. হাছান বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব তো শিক্ষক ছিলেন, ঢাকা কলেজে পড়াতেন। তাকে বলব, আগে পড়াতেন এখন সম্ভব হলে পড়তে হবে। কারণ ইউরোপের সব দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যে জ্বালানির মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের বেশি। আমেরিকাসহ সব উন্নত দেশে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে কারণ জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।’
