প্রায় শতকোটি টাকা মূল্যের রপ্তানিযোগ্য চোরাই গার্মেন্টস পণ্যসহ একটি চোর চক্রের প্রধান শাহেদ ওরফে সাঈদ ওরফে বদ্দাসহ চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। দেড় যুগ ধরে তারা রপ্তানিযোগ্য গার্মেন্টস পণ্য চুরি করে আসছিলেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের বিশেষায়িত এই ইউনিটের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি আরও জানান, গত বছরের ২৯ অক্টোবর গাজীপুরের কারখানা থেকে কাভার্ড ভ্যানে পোশাকের একটি চালান ব্রাজিলে রপ্তানির উদ্দেশে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়। পরদিন ৮৯৮ কার্টন ভর্তি সোয়েটার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ক্রেতা মনোনীত শিপিং প্রতিষ্ঠান ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের চালানটি গ্রহণ করে ব্রাজিলে পাঠায় এবং সেই মোতাবেক বন্দর থেকে চালানবহনকারী জাহাজটি রওনা দেওয়ার পরপরই ক্রেতা পুরো অর্থ পরিশোধ করেন। তবে গত ৬ জানুয়ারি ব্রাজিলের ক্রেতার কাছ থেকে পাওয়া ভিডিওচিত্র দেখে হতবাক হয়ে যায় গার্মেন্টস মালিকপক্ষ। সেখানে দেখা যায়, কিছু কার্টন সম্পূর্ণ খালি এবং অনেকগুলো কার্টন থেকে প্রচুর পরিমাণ পণ্য খোয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে চুরি হওয়া গার্মেন্টস পণ্যের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা হিসেবে পরিশোধ করতে হয় মালিকপক্ষকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ ২ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের গাছা থানায় চুরির ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করে। পরে চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারসহ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার রাতে র্যাব-৪ পৃথক অভিযানে মৌলভীবাজার, গোপালগঞ্জ ও ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে চোর চক্রটির মূল হোতা শাহেদ ওরফে সাঈদ ওরফে বদ্দা, ইমারত হোসেন সজল, শাহজাহান ওরফে রাসেল ওরফে আরিফ ও মো. হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে। এ সময় উদ্ধার করা হয় ব্রাজিলে রপ্তানির জন্য চুরি যাওয়া পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘শাহেদ এই গার্মেন্টস পণ্য চুরি জগতের মাস্টারমাইন্ড এবং এই চক্রের মূল হোতা ও নির্দেশদাতা। মূলত তার ছত্রচ্ছায়ায় ও সম্মতিতে দেশের প্রায় অধিকাংশ গার্মেন্টস পণ্য চুরির ঘটনা হয়ে থাকে। ৪০-৫০ জনের এ চক্রে রয়েছে অসাধু ড্রাইভার, হেলপার, গোডাউন মালিক, গোডাউন এলাকার আশ্রয়দাতা, অত্যন্ত দক্ষ কুলি সরদারসহ একদল শ্রমিক। প্রাথমিক পর্যায়ে তারা ট্রান্সপোর্টে গার্মেন্টসের মালামাল বহন শুরু করে। একপর্যায়ে গার্মেন্টস পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাভার্ড ভ্যানের চালক ও হেলপারদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে এবং অল্প সময়ে অধিক অর্থ উপার্জনের লোভ দেখিয়ে গার্মেন্টস পণ্য চুরির কাজে উৎসাহিত করে। প্রতিটি চুরির ঘটনার আগে চালকদের মাধ্যমে বিদেশে রাপ্তানিকৃত গার্মেন্টস পণ্যের স্যাম্পল নিয়ে চোরাই পণ্যের সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হতো।’
এই র্যাব কর্মকর্তা জানান, মৌলভীবাজার শহরে সাহেদের ১৫-২০ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি রয়েছে। মৌলভীবাজারের দুর্লভপুরে প্রায় ২০ একর জমির ওপরে মাছের খামারসহ বিশাল দুটি হাঁস-মুরগির খামারও রয়েছে তার। এ ছাড়া বর্তমানে তার নিজস্ব চারটি কাভার্ড ভ্যানসহ সহযোগীদের আরও ১৫টি কাভার্ড ভ্যান রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৭-১৮টি গার্মেন্টস পণ্য চুরির মামলা রয়েছে। অধিকাংশ মামলায় তিনি কারাভোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আদালতে ছয়টি মামলার বিচারকাজও চলমান রয়েছে।
