প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে জরিমানা

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:০৬ এএম

চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে ওষুধ আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত আইনটিতে কসমেটিকস অন্তর্ভুক্ত করে নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩’।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। খসড়া আইনে ওষুধ অবৈধভাবে মজুদ করে সংকট সৃষ্টি এবং ভেজাল ওষুধ তৈরি করলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

বর্তমানে ওষুধসংক্রান্ত বিষয় নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি আইন আছে। একটি হচ্ছে ১৯৪০ সালের ড্রাগস আইন এবং অন্যটি ১৯৮২ সালের দ্য ড্রাগস কন্ট্রোল অ্যাক্ট। এ দুটিকে এক করে এর সঙ্গে আরও নতুন কিছু বিষয় যোগ করে আইনের খসড়া করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রস্তাবিত আইনে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে ওষুধের নিরাপত্তা, কার্যকারিতা, নতুন ওষুধ, ভ্যাকসিন মেডিকেল ডেভেলপ করার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করার সুযোগ বর্তমান আইনে নেই। প্রস্তাবিত নতুন আইনে সে সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো ওষুধ যদি ক্ষতিকারক হয়, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় তার রেজিস্ট্রেশন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করার বিধান আছে। ভ্যাকসিন যখন আসে তার লটের কোয়ালিটি টেস্টের বিধান আগে ছিল না। প্রস্তাবিত আইনে সেটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বর্তমানে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়ম করা হয়েছে। বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বিক্রয় ও ব্যবহার বন্ধ থাকবে এবং এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মেডিকেল ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আইনে ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিছু বিষয়কে খসড়া আইনে মেডিকেল ডিভাইস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো ওষুধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

কসমেটিকসকে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নতুন আইনের মাধ্যমে কসমেটিকসের উৎপাদন, বিতরণ এবং মজুদ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তাদের দায়িত্ব ও কর্মপরিধি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। কসমেটিকস বিক্রি, আমদানি ও উৎপাদন করতে হলে লাইসেন্স নিতে হবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর লাইসেন্স অথরিটি হিসেবে কাজ করবে। এখন যারা কসমেটিকসের ব্যবসা বা উৎপাদন করছেন তাদের লাইসেন্স নিতে হবে। এ জন্য ঔষধ প্রশাসন বিধি প্রণয়ন করবে। প্রস্তাবিত এ আইনে কিছু ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ করে দেবে বলেও জানান তিনি।

কপিরাইট (স্বত্ব) না মানার শাস্তি ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘কপিরাইট আইন, ২০২৩’-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বর্তমান কপিরাইট আইন ২০০০ সালে প্রণয়ন করার পর ২০০৫ সালে সংশোধন করা হয়। ডিজিটাল যুগের বাস্তবতার আলোকে কপিরাইট আইন সংশোধনের খসড়া করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০২১ সালে কিছু পর্যবেক্ষণসহ নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। তার আলোকেই নতুন খসড়া করা হয়েছে। খসড়াটি মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে গতকাল।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য যদি কোনো মেধাস্বত্বের বিষয় থাকে, তা নিশ্চিত করার কথা আইনে বলা হয়েছে। পাইরেসি প্রতিরোধে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডিজিটাল অর্থাৎ কম্পিউটারভিত্তিক কার্যক্রমকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যা আগে ছিল না। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কপিরাইট লঙ্ঘনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লোকগান ও লোকসংগীতের অধিকার সুরক্ষার জন্য ধারা সংযোজন করা হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো কর্মের কপিরাইটের স্বত্বাধিকারী না হয়ে প্রকাশ, পরিবেশন বা সম্পাদন করেন তাহলে তিনি সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা অর্থদ-ে দ-িত হবেন।

মন্ত্রিসভায় ফসলি জমি রক্ষায় তিন ফসলি জমিতে কোনো ধরনের প্রকল্প না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত এজেন্ডার বাইরেও একটা বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটি হলো তিন ফসলি জমিতে প্রকল্প না নেওয়া। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিন ফসলি জমিতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, স্থাপনা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বা আবেদন করছে। বিশেষ করে সোলার প্যানেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিল্ডিং, বিভিন্ন ভবন তৈরি করার প্রস্তাব বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন কোনো তিন ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না। তিন ফসলি জমিতে কোনো প্রকল্প নেওয়া যাবে না। তিন ফসলি জমি সংরক্ষণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সবাইকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

প্রকল্প নেওয়ার সময় যাচাই করে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছেও তা পাঠানো হবে বলে জানান মাহবুব হোসেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত