পাহাড়ে জঙ্গিবিরোধী চলমান অভিযানে জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র ১৭ সদস্য এবং কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এর ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত মঙ্গলবার পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচি উপজেলার রেমাক্রি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বুধবার সকালে বান্দরবান জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান উদ্ধার হওয়া ৭ লাখ টাকা দিয়ে অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের।
খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি, উগ্রবাদী বই, কন্টেন্ট, লিফলেট, অস্ত্র ক্রয়ের উদ্দেশ্যে রক্ষিত নগদ ৭ লাখ টাকা ও গ্রেপ্তারকৃতদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। তিনি জানান, নাথান বমের বিশস্ত ২ সহযোগীকে আটক করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদে তারা নাথানবম কোথায় আছেন তা জানায়নি। তারা এই জঙ্গি সংগঠনকে সহযোগিতা করে আসছিল।জঙ্গিদের নিয়ে আসা, প্রশিক্ষণ দেওয়া, পথ প্রদর্শকসহ সব কাজে সব কিছুতে সহযোগিতা করছিলেন তারা। তাদের সঙ্গে নাথান বমের যোগাযোগ ছিল।
র্যাব প্রেস ব্রিফিং এ আরও জানায়, অবৈধ উপায়ে জঙ্গিদের থেকে নেওয়া সাত লাখ টাকা দিয়ে অস্ত্র কেনার বিষয়টি নাথান বমের নির্দেশনায় কেএনএফের সদস্যরা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
র্যাব জানায়, মঙ্গলবারের গোলাগুলির ঘটনায় র্যাবের ৮ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে বড় ধরনের কোনো আঘাত পায়নি তারা। আহতদের সামরিক হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
প্রেস ব্রিফিং এ র্যাব জানায়, ২০ অক্টোবরের অভিযানের কারণে জঙ্গিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে। জঙ্গিরা এখন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন না। এখন তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্নভাবে আত্মগোপনে আছেন। তবে তাদের কেউ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মুভমেন্ট সম্পর্কে জানাচ্ছে। তবে তারা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন, তা না হলে তারা অস্ত্র কিনতেন না। কেএনএফের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী তাদের সদস্য সংখ্যা আনুমানিক ২০০।
র্যাব জানায়, ৫৫ জনের তালিকায় ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তবে আরও ২৮ জনকে এখনো আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।
