সিলেট নগরীতে নিজের শয়নকক্ষ থেকে কলেজছাত্রী সোনিয়া আক্তারের (২০) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রক্তাক্ত লাশটি খাটের ওপর পড়ে ছিল। আজ রবিবার বেলা ১টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
নিহত সোনিয়া আক্তার সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া গ্রামের বিলাল আহমদের মেয়ে। সোনিয়া দক্ষিণ সুরমা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তিনি সিলেটের আঞ্চলিক ভাষার নাটকে অভিনয় ও টিকটক ভিডিও করতেন বলে জানা গেছে। তিনি সিলেট নগরীর শেখঘাট খুলিয়াপাড়ার ১৪ নম্বর বাসায় মা ও সৎবাবা সেলিম মিয়ার সঙ্গে বসবাস করতেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, দুপুরে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে সোনিয়ার লাশ উদ্ধার করে। সোনিয়ার গলায় গভীর কাটা দাগ ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশের পাশে রক্তমাখা একটি কাঁচি পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সোনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।
নিহত সোনিয়ার মা ও ভাবি সাংবাদিকদের জানান, সোনিয়ার বাবা সেলিম মিয়া অসুস্থ। গত শনিবার রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে শনিবার রাতেই তাদের বাসায় আসেন সোনিয়ার মামাতো ভাই সজিব আহমদ। রবিবার সকালে সোনিয়ার মা হাসপাতালে চলে যান। ওই সময় বাসায় সোনিয়া, তার ভাবি ও সজিব আহমদ ছিলেন। সকাল ৮টার দিকে সজিব সোনিয়ার মাকে ফোন করে জানায় সে বাড়ি চলে যাচ্ছে। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সোনিয়ার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তার ভাবি সোনিয়ার শয়নকক্ষে গিয়ে খাটের ওপর তার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। ঘটনার পর থেকে সজিবের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সজিবের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার নবীনগর গ্রামে। সোনিয়া হত্যায় সজিব জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।