ফাইনালে যাওয়ার ম্যাচে ঝলক দেখালেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বোলাররা। তাদের বোলিং তোপে মুখ থুবড়ে পড়ে সিলেট স্ট্রাইকার্সের ব্যাটিং লাইন-আপে। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে তারা অলআউট হয়ে গেছে মাত্র ১২৫ রানে। তাও ইনিংস শেষে হতে তখনও বাকি ছিল ১৭ বল।
তৃতীয় ওভার শেষ হতেই নেই সিলেটের তিন টপ অর্ডার। স্কোরবোর্ডেও মাত্র যোগ হয়েছিল ১৬ রান। আর তখনই মাঠে নামেন সিলেট স্ট্রাইকার্স অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এভাবে তাকে আগেও বহুবার নামতে দেখা গেছে। অতীতে প্রমাণও দিয়েছেন নিজের সামর্থের। ব্যাটসম্যানদের এমন ব্যর্থতার পাঁচে ব্যাট হাতে তার নেমে যাওয়া আশা দেখালেও শঙ্কা ছিল বেশি।
তবে নামটা যে মাশরাফী। বিপদে হাল ধরাই যেন তার কাজ। আর সেই কাজ সামলালেন কি দারুণভাবে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বোলারদের তোপ আর ঘূর্ণিতে সিলেট স্ট্রাইকার্সের ব্যাটসম্যানরা নাকাল হলেও ম্যাশকে তারা বশ করতে পারেনি। আর তাতেই ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে পেয়েছিল দলটি। ১৬ রানে ৩ উইকেট থাকা দলটির চতুর্থ উইকেট যায় দশম ওভারের প্রথম বলে। সিলেটের রান তখন ছিল ৭২।
আর সেই পথে যেতে নাজমুল হোসেন শান্তকে যোগ্য সঙ্গ দেন অধিনায়ক মাশরাফী। ১৭ বল খেলে তিনি করেন ২৬ রান। তার ব্যাট থেকে আসে দুটি করে চার ও ছক্কা।
তবে ম্যাশের বিদায়ের পর ফের হাল ছেড়ে দেন সিলেটের ব্যাটসম্যানরা। আবার চোখের পলকেই পড়ে যেতে থাকে উইকেট। শান্ত ফিরে যান ২৯ বলে ৩৮ রান করে। তার ব্যাট থেকে চারটি চার ও একটি ছক্কা। তবুও বড় রানের আশাটুকু বেঁচে ছিল, কারণ তখনও ছিলেন জিম্বাবুয়ের রায়ান বার্ল। তবে মুকিদুলকে খেলা প্রথম বলেই তার সুইপ শটে বল চলে যায় সীমানার খুব কাছে। সেখান থেকেই ক্যাচ লুফে নেন তানভির ইসলাম। আর তাতেই নিভে যায় বড় রানের আশা।
যদিও মুশফিকুর রহিম ছিলেন। হাল ফেরানোর চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু নিজের ইনিংসটা বড় করতে পারেননি তিনি। ফিরে গেছেন ২২ বলে ২৯ রান করে। মেরেছেন চারটি চার। শেষ বেলায় জর্জ লিন্ডে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু যোগ্য সঙ্গীর অভাবে হালে পানি পায়নি দল। তিন ওভার আগেই গুটিয়ে যায় স্ট্রাইকার্সরা।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে তানভির ইসলাম, আন্দ্রে রাসেল ও মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন দুটি করে উইকেট। একটি করে উইকেট শিকার করেছেন মঈন আলি, সুনীল নারিন ও মুকিদুল ইসলাম।
মাত্র ১২৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে একটু পর ব্যাটিংয়ে নামবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এই রান টপকাতে পারলেই তারা নিশ্চিত করবে ফাইনাল। সিলেটকে অপেক্ষা করতে হবে পরের ম্যাচের জন্য।