চ্যালেঞ্জিং সময়ে কতটা আলো জ্বালাবেন রাষ্ট্রপতি

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:৩১ এএম

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। এখনো রাষ্ট্রের অভিভাবকের চেয়ারে না বসলেও গত রবিবার সকালে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের মনোনীত সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন নির্বাচন কমিশনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে। রাষ্ট্রপতি পদে আর কোনো প্রার্থী না থাকায় গতকাল সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। নতুন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করে দেশের জনগণের অভিভাবকের গুরুদায়িত্ব পালন শুরু করবেন।

এদিকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক রীতিতে দেশ পরিচালিত হয় বলে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ পদ হিসেবে বিবেচনায় থাকে। তবে পদ সর্বোচ্চ হলেও সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে অনেক কম দায়িত্ব অর্পণ করেছে। এখন এসব নানা ভাবনা কাজ করছে বিভিন্ন মহলে। নতুন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের সর্বোচ্চ পদ অলংকৃত করে অভিভাবক হিসেবে কতটা গ্রহণযোগ্য হবেন সেই আলোচনায় মগ্ন পুরো দেশের মানুষ। তাকে ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে বহু প্রশ্ন। রাষ্ট্রপতি কী আলংকারিকই থেকে যাবেন, না সংকটে দেশমাতৃকার টানে রাষ্ট্রকে রক্ষা করবেন দক্ষতার সঙ্গে? প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্রের সবার হবেন? না আলংকারিক ভেবে নিজেকে সংকট সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ থেকে বিরত রাখবেন? সংসদীয় পদ্ধতিতে চলা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আলংকারিক হলেও সংকটে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে দেশ রক্ষা করবেন না দেশকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দেবেন? কারও মনে প্রশ্ন মো. সাহাবুদ্দিন কি আবার সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত আবদুর রহমান বিশ্বাস বা ড. ইয়াজউদ্দিনের মতো হবেন? দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে এখন এমন নানা প্রশ্ন আবর্তিত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে চ্যালেঞ্জিং সময়ে অভিভাবকের গুরুদায়িত্ব পালনে কতটা আলোর বাতি জ্বালাবেন নতুন এই রাষ্ট্রপতি। এসব আলোচনার মধ্যেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ওপর আস্থা-বিশ্বাস রাখতে চান রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষকসহ অনেকেই। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি তার বিচারক পেশাজীবনের আগে ও পরে রাজনীতিসম্পৃক্ত ছিলেন। তাই রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তিনি অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে আশাবাদী তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দেশের অন্যতম প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংকটে ভূমিকা পালন করতে পারবেন তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন)। কারণ, সরকারি চাকরি করলেও তিনি বুনিয়াদি রাজনীতিক।’

রাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী আর রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য দরকার উল্লেখ করে পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির কাজ যেন শুধু মাজার উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জনআকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন বলে বিশ্বাস করি। তিনি যেন আবদুর রহমান বিশ্বাস ও ইয়াজউদ্দিন আহমেদের মতো না হন সেই প্রত্যাশা করি।’

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা যে সংসদীয় রীতিতে চলি তাকে বলা হয় ওয়েস্টমিনস্টার পার্লামেন্টারি ফর্ম। এখানে যিনি রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে থাকেন তার দায়িত্বটা একেবারেই আলংকারিক। আমারা অনেক সময় এক্সাইটেড (আবেগাপ্লুত) হয়ে তাকে অভিভাবক ডেকে থাকি। সেটাও মূলত আলংকারিক অর্থে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদীয় ব্যবস্থাতে রাষ্ট্রপ্রধান যিনিই থাকবেন তিনি সরকারপ্রধানের পরামর্শমতে কাজ করবেন। ফলে এখানে রাষ্ট্রপতির সৃজনশীল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা কারও যদি মানতে ইচ্ছা হয় তাহলে ভালো এবং না মানতে ইচ্ছে হলেও ভালো। এ প্রসঙ্গে অনেকেই মনে করতে পারেন ধুর, আমরা এই ব্যবস্থায়ই থাকব কেন, আরেকটা ব্যবস্থা নেব।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক বলেন, ‘ব্রিটেনের রাজাকে আমরা যাই মনে করি, কিন্তু পার্লামেন্টে যিনি নেতা অথবা যিনি প্রধানমন্ত্রী তার ইচ্ছা এবং অনিচ্ছার বাইরে কিছু করবেন না, এটাই হচ্ছে কাক্সিক্ষত। এর বাইরে যেকোনো কিছুই অনাকাক্সিক্ষত। এটা যেন আমরা সবাই খেয়াল রাখি। এক্ষেত্রে আমাদের উত্তেজনা যাতে না বাড়ে।’

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা পুরোপুরি বৃত্তবন্দি বলে মনে করেন অধ্যাপক শান্তনু। তিনি বলেন, ‘যখন সংবিধানের প্রশ্ন আসে, সংবিধান সমন্বয়ের প্রশ্ন আসে, সেখানে রাষ্ট্রপ্রধান নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে এটুকুই প্রত্যাশা থাকে, সংসদীয় যে শিষ্টাচার সেই শিষ্টাচারের মধ্যে রাষ্ট্রপ্রধানের যেটুকু পরিসর দেওয়া আছে, সেটুকুর মধ্য থেকে গণতন্ত্র, সংবিধান এগুলো সেফগার্ড (সুরক্ষা) করা।’

তাহলে রাষ্ট্রপতি কি শুধুই সাক্ষীগোপাল এমন প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক শান্তনু বলেন, ‘এটা ঠিক না। রাষ্ট্রপতি কোনো জড় পদার্থ নয়। একটি সজীব সত্তা, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ওয়েস্টমিনস্টার ডেমোক্রেসিতে এই রাষ্ট্রপ্রধান আলংকারিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুশীল সমাজের মহাপ্রভুরা রাষ্ট্রসংক্রান্ত যে চিন্তাভাবনা গত দুইশ/চারশ বছরে করেছেন সেটার সঙ্গে মিল অমিলের ব্যাপারটা হয়তো মাথায় রাখেন না তারা। ফলে বানোয়াট একটা সিচুয়েশন তৈরি করেন। ওই সিচুয়েশনকে আমি অত গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। কারণ বাংলাদেশ আর আট-দশটা পোস্ট কলোনিয়াল (সাম্রাজ্যবাদ-উত্তর) রাষ্ট্রের মতো একটা। বাংলাদেশে এমন কোনো ব্যতিক্রম নেই। কিন্তু সুশীল সমাজের একটি অংশ দেশের পলিটিশিয়ানদের বিশ্বব্রহ্মান্ডের সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট করতে আগ্রহী।’

তবে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু নতুন রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নবনির্বাচিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সাহেবের কাছে বিচারিক দক্ষতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক স্বচ্ছতা এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবিচল আস্থা নিয়ে একজন বাঙালিপন্থি মানুষ হিসেবে আচরণ প্রত্যাশা করি।’

সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সুতরাং নতুন রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা ও প্রয়োগের তত্ত্ব জানেন, বোঝেন। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নিজের দক্ষতায় সংবিধান প্রয়োগ করতে পারবেন। সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে পারবেন। এই আস্থা আমার আছে।’

রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে নতুন রাষ্ট্রপতি নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কী ভূমিকা পালন করবেন, সে প্রশ্নে জাসদ সভাপতি বলেন, ‘ওই যে বললাম সংবিধান প্রয়োগ ও সমুন্নত রাখতে পারবেন নতুন রাষ্ট্রপতি, সে আস্থা আমার আছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদও নতুন রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে আশাবাদী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেবলই উনি রাষ্ট্রপতি হলেন। যেহেতু ওনার সম্পর্কে বড় ধরনের কোনো নেতিবাচক কথাবার্তা নেই, সেই হিসেবে আমিসহ বিভিন্ন মহল মনে করছে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভালোভাবেই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সবারই স্মরণ রাখতে হবে  আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা একেবারেই কম। খালি দুটি বিষয়েই তার ক্ষমতা আছে। একটা হলো নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। সেটাও নিয়ম আছে যে, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন। প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা। আরেকটা হলো প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা। এর বাইরে তার কোনো দায়িত্ব নেই। আমাদের দেশের সংবিধানের যে কাঠামো সেখানে প্রধানমন্ত্রীই মূল।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘প্রতীকী একটা গুরুত্ব আছে। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ও মতামত থাকবে, এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য হয়তো মূল্যায়ন করা হবে।’

অভিভাবক হিসেবে ক্রান্তিকাল এলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সামর্থ্যবান হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি, সে প্রশ্নে অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে দায়িত্ব নিয়ে যখন দৃশ্যমান হবে তখন বোঝা যাবে। এখন বোঝা মুশকিল। তবে যেহেতু একসময় বিচারক ছিলেন, সেই হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন সাহেবের খুব একটা ঝামেলা হওয়ার কথা না। নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে থাকবেন কি না, এগুলো আসলে কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে। এগুলো নিয়ে পজিটিভ বলা যেমন ঝামেলা নেগেটিভ বলাও ঝামেলা। কারণ ওই ধরনের পরিস্থিতি এখনো হয়নি। যখন উনি ভূমিকা পালন করবেন তখন বিশ্লেষণ করা যাবে। তবে মানুষের আশা থাকবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থ দেখে জনগণের স্বার্থ দেখে দায়িত্ব পালন করবেন। এটাই সবাই আশা করবে।’

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা : দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মূলত দুটি নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা আছে. প্রধান বিচারপতি নিয়োগের সম্পূর্ণ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির। তিনি নিজ ক্ষমতাবলে প্রধান বিচারপতি কে হবেন, তা নির্ধারণ করে নিয়োগ দিতে পারবেন।

এছাড়া রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করতে হয়। তবে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে, তখন কোন দলের জোট থেকে কে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবেন, তা রাষ্ট্রপতিই নির্ধারণ করবেন। এ ধরনের পরিস্থিতি দেশে শুধু ১৯৯১ সালেই একবার হয়েছিল। তখন রাষ্ট্রপতি নিজের বিবেচনাবোধ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপতির আরও কিছু ক্ষমতা : প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়াও সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী বাকি সব দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন। সংবিধানের ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না, কিংবা পরামর্শ দিয়ে থাকলে তা নিয়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের ৫ নম্বর পরিচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অনুরোধ করলে যেকোনো বিষয়ে মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী পেশ করবেন।

সংবিধানে বলা হয়েছে, সংবিধান ও অন্য কোনো আইনের দ্বারা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া ও অর্পিত সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করবে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্র নীতিসংক্রান্ত বিষয় রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্র্তৃপক্ষের দেওয়া যেকোনো দণ্ডের মার্জনা বা ক্ষমা করতে পারবেন। রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি : সংবিধানের ৫১ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে তার দায়িত্বের ব্যাপারে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে কোনো প্রকার ফৌজদারি মামলা করা যাবে না। তাকে গ্রেপ্তারের বা কারাগারে নেওয়ার জন্য কোনো আদালত থেকে পরোয়ানা জারি করা যাবে না।

রাষ্ট্রপতির অভিশংসন : সংবিধানের ৫২ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিখে একটি প্রস্তাবের নোটিস স্পিকারের কাছে প্রদান করতে হবে। স্পিকারের কাছে অনুরূপ নোটিস প্রদানের দিন থেকে ১৪ দিন আগে বা ৩০দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হতে পারবে না। এক্ষেত্রে সংসদের অধিবেশন না থাকলে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন স্পিকার। অভিযোগ যথার্থ ঘোষণা সংসদ প্রস্তাব গ্রহণ করলে প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত