নির্যাতনের শিকার ইবি শিক্ষার্থী

সুষ্ঠু বিচার চাই আমি

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:৫৩ এএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রথম বর্ষের ছাত্রীকে রাতভর শারীরিক নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত কমিটির ডাকে এক সপ্তাহ পর শনিবার পাবনার গ্রামের বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে আসেন ওই ছাত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাবা ও মামা। হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা কথা বলার পর নির্যাতনে জড়িতদের বিচার চেয়ে ফের বাড়িতে ফিরে যান ওই ছাত্রী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, তদন্তের স্বার্থে আমি ক্যাম্পাসে এসেছিলাম। আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা আমি স্যারদের বলেছি। এর সুষ্ঠু বিচার চাই আমি।

এদিকে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা নির্যাতনের এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানিয়ে এলেও নীরব রয়েছেন শিক্ষকরা। তাদের একটি সংগঠনও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেওয়া বা প্রতিবাদ জানায়নি। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রী নির্যাতনের এই ঘটনা তদন্তে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তের স্বার্থে হল কর্তৃপক্ষ গতকাল ওই ছাত্রীকে ক্যাম্পাসে আসতে বলে। দুপুর ১২টার দিকে সহকারী প্রক্টর জয়শ্রী সেন নিরাপত্তা দিয়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে হলে নিয়ে আসেন। পরে হলের প্রভোস্ট রুমে তার কাছ থেকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে এই তদন্তকাজ চালান কমিটির সদস্যরা। এ সময় হল কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ওই ছাত্রীকে ঘটনাস্থলেও নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেবা মণ্ডল ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আহসানুল হক ও অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আরা সাথী। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ। তদন্ত কমিটির সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলার পর বাবা ও মামার সঙ্গে ফের বাড়ি চলে যান ওই ছাত্রী।

তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেবা মণ্ডল বলেন, সরেজমিনে তদন্তের জন্য আমরা হলে গিয়েছিলাম। মেয়েটি যে যে রুমে ছিলেনপ্রজাপতি, দোয়েল-২ এবং ৩০৬ নম্বর রুম সেসব রুমে আমরা সরেজমিনে গিয়েছি। আমরা ওইসব রুমে যাদেরকে পেয়েছি তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আর যাদের পাইনি তাদেরও সাক্ষাৎকার আগামীকাল নেওয়া হবে। আর অভিযুক্তদের (ছাত্রলীগ নেত্রী ও তার সহযোগীরা) সাক্ষাৎকার নিতে আমরা হল প্রভোস্ট মহোদয়কে তাদের আগামী পরশুদিন সকাল ১০টায় তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত থাকতে চিঠির মাধ্যমে জানাতে বলেছি। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের প্রয়োজনে আরও সাক্ষাৎকার আমরা নেব।

ছাত্রী নির্যাতন ইস্যুতে নীরব ভূমিকার কারণ জানতে চাইলে ইবির শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান বলেন, ব্যস্ততার কারণে আমরা প্রতিবাদ জানাতে পারিনি। তবে শিক্ষক সমিতিকে আমরা বিষয়টি অবহিত করেছি।

সুষ্ঠু তদন্তের জন্য উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি: ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিস একটি উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। যাতে ছাত্রী নির্যাতনের বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা লিখিত আকারে বা সশরীরে আগামী সোমবার বেলা ১১টার মধ্যে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডলের অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইবির দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে গত রবিবার রাতে সাড়ে চার ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ করেছেন প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরীর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা নির্যাতন চালিয়েছেন। নির্যাতনের সময় তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, গালাগাল এবং এই ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ওই ছাত্রী গত বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর, হলের প্রভোস্ট ও ছাত্র উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত