‘একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমরা গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারে নতুন করে শপথ নিতে চাই। জনগণের কথা বলার অধিকার, মুক্তচিন্তার, লেখার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’ গতকাল রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক যৌথ সভা শেষে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।
নেতা-কর্মীদের ওপর সরকারের দমনপীড়নের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা-গায়েবি মামলা দিয়ে সারা দেশে প্রায় ৪০ লাখ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এক কথায় সম্পূর্ণভাবে একনায়কতন্ত্র এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ভয়াবহ রকমের চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ, সোচ্চার হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এবারের একুশে ফেব্রুয়ারি নতুন করে ভাষাশহীদদের স্মরণের মধ্য দিয়ে, জাতিকে আবার ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসার শপথ গ্রহণ করব আমরা।’
গৃহবন্দি খালেদা জিয়া ও বিদেশে নির্বাসিত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের চিত্রও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, মনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, মহানগর বিএনপির রফিকুল আলম মজনু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দুদিনের কর্মসূচি : মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা হবে এবং একুশে ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে দলের নেতা-কর্মীরা রাজধানীর বলাকা সিনেমা হলের সামনে সমবেত হয়ে কালো ব্যাজ বুকে লাগিয়ে প্রভাতফেরি করে প্রথমে শহীদদের কবর জিয়ারত এবং পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করবেন। এতে স্থায়ী কমিটির সদস্য বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা থাকবেন।
এ ছাড়া নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও জেলা কার্যালয়, থানাগুলোয় একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষাশহীদদের স্মরণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অধনমিত রাখা। উত্তোলন করা হবে কালো পতাকা। সারা দেশে আলোচনাসভার জন্য দলের সব জেলাকে বলা হয়েছে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।
দৈনিক দিনকালের ডিক্লারেশন বাতিলে ফখরুলের নিন্দা : পত্রিকার ডিক্লারেশন ও মুদ্রণের ঘোষণাপত্র বাতিল করায় এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের অধীনে গণমাধ্যমের যে স্বাধীনতা নেই, তা আবারও প্রমাণিত হলো। দৈনিক দিনকাল বিরোধী দলের একমাত্র পত্রিকা হিসেবে দীর্ঘদিন মুখপত্রের ভূমিকা রাখছে। পত্রিকাটির প্রকাশনা বাতিল সরকারের চরম হিংসা চরিতার্থের বহিঃপ্রকাশ।
