পাকিস্তানের সংকট নিয়ে যা বললেন আইএমএফ প্রধান

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৯:১৬ পিএম

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি বাঁচিয়ে তুলতে পাকিস্তানকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছে সংস্থাটি। যাতে দেশ হিসেবে পাকিস্তান একটি শক্তিশালী জায়গায় থাকতে পারে, দেনার দায়ে ডুবে যেতে না হয়।

শ্রীলঙ্কার মতো পরিণতি ঠেকাতে কয়েক মাস ধরে আইএমএফের কাছ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। এ নিয়ে নয় দফা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ।

যদিও আইএমএফের কাছ থেকে ঋণের প্রথম কিস্তির ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের আশায় উদগ্রীব হয়ে আছে পাকিস্তান। দেশটি আশা করছে, আইএমএফের ঋণ পাওয়া গেলে বন্ধু রাষ্ট্রগুলো থেকেও সহায়তা মিলবে।

এদিকে আইএমএফের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ পেতে সংস্থাটির বেশ কিছু শর্ত মেনে নিয়েছে পাকিস্তান। এর ফলে দেশবাসীর ওপর চেপেছে বিপুল করের বোঝা। অত্যধিক কর চাপানোর ফলে আকাশ ছুঁয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। এমন পরিস্থিতিতে আইএমএফের পক্ষে বলা হলো, দেশের ধনী নাগরিকদের ওপর কর চাপানো হোক। সরকারি সুযোগ সুবিধাগুলো এমন নাগরিকদের দেওয়া হোক যাদের সত্যিই প্রয়োজন আছে।

আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, ‘পাকিস্তানকে এখন দুটো কাজ করতে হবে। রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। যে সব ব্যক্তি বা সংগঠনের আয় তুলনামূলক বেশি, তাদের ওপরই বেশি কর চাপানো যেতে পারে। সেই সঙ্গে সরকারি সুযোগ সুবিধাও শুধুমাত্র দরিদ্রদের জন্যই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। পাকিস্তানের দরিদ্র মানুষকে রক্ষা করাই আইএমএফের লক্ষ্য’।

আইএমএফের কঠিন শর্তের পরেই প্রশ্ন উঠেছিল, ঋণ মেটাতে গিয়ে প্রবল সংকটে পড়বেন পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ। মূল্যবৃদ্ধির জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন তারা। অন্যদিকে ঋণ ছাড়া দেশের অর্থনীতিকে উদ্ধার করা পাকিস্তানের পক্ষে সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে কেন কঠিন শর্ত দেওয়া হল, তা নিয়ে একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েছে আইএমএফ। সে জন্যই পাকিস্তানের অবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন সংস্থার প্রধান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত