সিনেমায় মনস্তাত্ত্বিকভাবে, জাদুগতভাবে এমনকি প্রযুক্তিগতভাবে টেলিপোর্টেশন দেখানো হয়ে থাকে। আমরা হয়তো স্টার ট্রেক, দ্য ফ্লাই বা ডক্টর স্ট্রেঞ্জের মতো সিনেমায় বিভিন্ন ধরনের টেলিপোর্টেশন দেখতে পাই। যদিও টেলিপোর্টেশনের ধারণা বেশ পুরনো। টেলিপোর্টেশনের কথা সর্বপ্রথম উল্লেখ করা হয়েছিল লেখক এডওয়ার্ড পেজ মিশেলের ‘দ্য ম্যান উইদাউট আ বডি’ শিরোনামের ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হওয়া এক সায়েন্স ফিকশন গল্পে। তবে বাস্তবে কি তা আদৌ সম্ভব? বিজ্ঞানের আলোচনায় কোনো বস্তু বা মানুষের মূল কপি তাৎক্ষণিকভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা এখনকার প্রযুক্তিতে সম্ভব নয়। তবে হলোগ্রাফিক টেলিপোর্টেশনের মাধ্যমে বস্তু বা মানুষের তাৎক্ষণিক থ্রি ডাইমেনশনাল চিত্র স্থানান্তর করা সম্ভব।
২০২২-এর ২৭ জুলাই ওয়েস্টার্ন ইনস্টিটিউট ফর স্পেস এক্সপ্লোরেশনের একদল ছাত্র বিশ্বে প্রথম দ্বিমুখী হলোগ্রাফিক টেলিপোর্টেশন আবিষ্কার করেন। তারা সেটিকে হলোপোর্ট বলে। হলোগ্রাফিক টেলিপোর্টেশন প্রযুক্তি মাইক্রোসফট দ্বারা তৈরি হার্ডওয়্যার এবং এক্সা এরোস্পেস সফটওয়্যার থেকে আসে। প্রকল্পটি ওয়েস্টার্ন ইনস্টিটিউট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিকেল ছাত্রদের যৌথ সহযোগিতায় উদ্ভাবন হয়। এর মধ্যে আরও রয়েছেন সিরেক এবং আনা লুইসা ট্রজোস যারা প্রাথমিক তদন্তকারী, তারা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র জোসেলিন হুইটাল এবং মেডিকেল ছাত্র অ্যাডাম লেভচুকের সঙ্গে কাজ করছেন।
কীভাবে কাজ করে হলোপোর্ট?
প্রযুক্তিটিতে একটি বিশেষ ক্যামেরা এবং ভিআর সেট ব্যবহার করা হয়, যা পরিহিত ব্যক্তির একটি হলোগ্রাফিক চিত্র তৈরি করে। তারপর ছবিটি নির্বাচিত গন্তব্যে পাঠানো হয়। অন্য প্রান্তে ব্যবহারকারী হোলোলেন্স নামে একটি ডিভাইস পরেন, যা ব্যবহারকারীকে অপর পাশের ব্যবহারকারীর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করে। অ্যাডাম সিরেক, শুলিচ স্কুল অব মেডিসিন অ্যান্ড ডেন্টিস্ট্রির একজন সহযোগী অধ্যাপক, সেই সঙ্গে লিপ বায়োসিস্টেমের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তিনি জানান, ‘প্রযুক্তিটি আশ্চর্যজনকভাবে খুবই সাধারণ, এটি একটি হেডসেট এবং ৩উ স্ক্যানিং ক্যামেরা দ্বারা আপনার হলোগ্রাফিক চিত্র তৈরি করে এবং বিশ্বের যেকোনো স্থানে আপনার থ্রি ডাইমেনশনাল (৩উ) চিত্রটি সরাসরি স্থানান্তর করে।’ এই প্রযুক্তির ওপর ভার্চুয়াল মেডিকেল পরীক্ষা পরিচালনার জন্য এখনো কাজ বাকি আছে। ওয়েস্টার্ন ইনস্টিটিউট জানায়, দলটি কীভাবে বাস্তব বিশ্বে এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করবে তারই পরিকল্পনা করছে। তিনি আরও জানান, ‘এটি উত্তেজনাপূর্ণ, চমৎকার এবং আশা করি আমাদের এই উদ্ভাবন পরবর্তী প্রজন্মের মানুষকে এর থেকেও ভালো প্রযুক্তি নিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।’
