ফ্ল্যাটের খোঁজে এসে নিরাশ মধ্যম আয়ের মানুষ

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:১৯ এএম

সরকারি কর্মকর্তা শফিকুর রহমান। পরিবার নিয়ে রিহ্যাব ফেয়ারে ফ্ল্যাটের খোঁজ নিতে এসেছেন। কোন ধরনের ফ্ল্যাট চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘৮০ লাখ টাকার মধ্যে তিন বেডের একটি ফ্ল্যাট চেয়েছিলাম। কিন্তু মেলায় আসা পছন্দনীয় ডেভেলপাররা বলছে এ দামে ফ্ল্যাট নেই। বাজেট কমপক্ষে এক থেকে দেড় কোটির মধ্যে যেতে হবে।’

শফিকুর রহমানের মতো এমন অসংখ্য দর্শনার্থী গত দুদিনে চট্টগ্রাম রিহ্যাব ফেয়ারে এসেছেন। তাদের বেশিরভাগের বাজেট ৮০ লাখের মধ্যে। ফলে তাদের নিরাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু বে ভিউতে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয় চার দিনের এ আবাসন মেলা। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে দর্শনার্থীর চাপ বেড়েছে।

দর্শনার্থীরা কোন ধরনের ফ্ল্যাট চায় জানতে চাইলে এবং তাদের বাজেট কতো এমন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়। জুমাইরা হোল্ডিংস লিমিটেডের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম (নয়ন) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফেয়ারে আমরা অংশ নিয়েছি আমাদের অবস্থান জানানোর জন্য। তবে ফেয়ারে আসা বেশিরভাগ দর্শনার্থী যে বাজেটের ফ্ল্যাট চান সেই বাজেটের ফ্ল্যাট প্রকৃতপক্ষে নেই। বেশিরভাগ দর্শনার্থী ৮০ লাখ টাকার মধ্যে তিন বেডের ফ্ল্যাট চান। কিন্তু নির্মাণ উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভবনের নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে এ দামে ফ্ল্যাট দেওয়া সম্ভব নয়।’

চট্টগ্রামের আবাসন খাতের অন্যতম পুরোধা ইকুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. কাজী আইনুল হক বলেন, ‘একসময় ফ্ল্যাট ছিল শুধু একটি ভবনের মধ্যে ঘর তৈরি করে দেওয়া। এখন কিন্তু ফ্ল্যাট মানে নাগরিকের সুযোগ-সুবিধা (বাগান, শিশুদের খেলার জায়গা, বয়স্কদের বিনোদন স্পেস, জিম সুবিধা, কমিউনিটি হল প্রভৃতি) নিশ্চিত করতে হয়। আর এসবের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নির্মাণ উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি। ফলে সব মিলিয়ে ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে গেছে।’

সিপিডিএলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘মেলায় আসা বেশিরভাগ দর্শনার্থী মধ্যম আয়ের। কিন্তু তাদের বাজেট অনুযায়ী ফ্ল্যাট প্রকৃতপক্ষে এখন শহরের ভেতরে নেই। তবে শহরের বাইরে গেলে সম্ভব।’

মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট না থাকার কথা স্বীকার করে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম বলেন, ‘নির্মাণ উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ করা কঠিন। বাজারে কমপক্ষে দেড় কোটির ওপরে গিয়ে ফ্ল্যাট নিতে হবে। মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য যেসব ডেভেলপার ফ্ল্যাট নির্মাণ করত তারা বাজার থেকে হারিয়ে গেছে।’

নগরীতে সবচেয়ে বেশি রেডি ফ্ল্যাট রয়েছে এপিক প্রপার্টিজের। আবাসনের বাজারে মধ্যম আয়ের বাজেট ও উচ্চবিত্তদের বাজেটের আওতাধীন ফ্ল্যাট নির্মাণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া পাহাড়চূড়ায় যেখানে অনেকে ভবনের ডিজাইনে পিছপা হয় সেখানে প্রতিষ্ঠানটির লাক্সারি ফ্ল্যাটগুলোর বেশিরভাগ পাহাড়চূড়ায়। এ বিষয়ে কথা হয় এপিক প্রপার্টিজের পরিচালক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখন আর আগের দামে ফ্ল্যাট দেওয়া সম্ভব নয়। নির্মাণ উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং ফ্ল্যাটের সঙ্গে নানা সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হয় স্বাভাবিকভাবেই ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে গেছে।’

বিভিন্ন স্টলের সেলসম্যানদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন থেকে চার বছর আগেও নগরীতে প্রতি বর্গফুট চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় ফ্ল্যাট বিক্রি হতো। পর্যায়ক্রমে তা বেড়ে এখন গড়ে প্রতি বর্গফুটের দাম ছয় হাজার থেকে সাত হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে। ভালো লোকেশন ফ্ল্যাট নিতে হলে তখন প্রতি বর্গফুট ১০ হাজার টাকার বেশিও দাম হয়।

জুমাইরা হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘খুলশী তিন(ক) রোডে জুমাইরা ইসলাম প্যালেসের তিনটি ফ্লোর ও একটি বেজমেন্ট ছেড়ে দেওয়া হয়েছে শুধু পার্কিং ও কমিউনিটি ফ্যাসিলিটির জন্য। খুলশীর মতো জায়গায় ভূমির যে দাম সেখানে তিনটি ফ্লোর ছেড়ে দেওয়ায় এর মূল্য বাকি ফ্ল্যাটগুলোতে পড়বে স্বাভাবিক। আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত