মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অসময়ে রামপাল ভোগাবে বহুকাল

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:০৫ এএম

তেরো বছর আগে বাগেরহাটের রামপালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতি ৯০ শতাংশের মতো। পুরো কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝেই কেন্দ্রটি থেকে আদৌ পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়।

অথচ এই কেন্দ্রের ৪ বছর পর পটুয়াখালীর পায়রায় একই ক্ষমতার কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ-চীনের যৌথ উদ্যোগে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ২০২০ সালে। সেখানে সমান সক্ষমতার আরও একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে, যেটি ২০২৫ সালে উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে এমন দাবি তুলে শুরু থেকেই এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন পরিবেশবাদী ও নাগরিক সমাজ। যদিও সরকারের দাবি, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এই কেন্দ্রের কারণে সুন্দরবন ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি (এনটিপিসি) যৌথভাবে বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) গঠন করে কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে। ভারতের এক্সিম ব্যাংকের ঋণসহায়তায় কেন্দ্রটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভারত হেভি ইলেকট্রিক লিমিটেড (ভেল)।

কেন্দ্রটি নির্মাণে ২০১০ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সই হয়। পরে দুই দেশের সমান অংশীদারিত্বে গঠিত হয় নতুন কোম্পানি। কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কিনতে ২০১৩ সালের ২০ এপ্রিল ক্রয় চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ক্রয় চুক্তির সময় কেন্দ্র থেকে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ৮ দশমিক ৮৫ টাকা ধরা হলেও বর্তমানে কয়লার মূল্যবৃদ্ধির কারণে দাম দিতে হবে ১৪ থেকে ১৫ টাকা।

পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমত উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রামপাল কেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। শুরুতেই এই কেন্দ্র নিয়ে আশঙ্কা করা হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। এটি যখন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনো এই কেন্দ্রের বিদ্যুতের প্রয়োজন ছিল না। আর এখন সরকারের দাবি অনুযায়ী, চাহিদার চেয়ে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। ফলে এখন এই কেন্দ্র একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। উপরন্তু নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কেন্দ্রভাড়া দিতে হবে। সেই সঙ্গে দিতে হবে ঋণের কিস্তি। এককথায় বলা যায়, কেন্দ্রটি বাংলাদেশকে অনেক ভোগাবে।’

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে শুরু থেকেই মিথ্যাচার ও লুকোচুরির অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছিল কেন্দ্রটি নির্মাণে আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে। বেশ পরে জানা গেল, আসলে সেখানে সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্বিতীয় প্রযুক্তির চেয়ে প্রথম প্রযুক্তি ব্যবহারে কয়লার দূষণ হয় কম।

দেশের অন্যান্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ সম্পর্কিত তথ্য সহজে পাওয়া গেলেও রামপাল কেন্দ্রের সঠিক তথ্য কখনোই পাওয়া যায়নি। এমনকি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশ জটিল। সেখান থেকেও সহজে তথ্য পাওয়া বেশ মুশকিল। নানা কসরতে সাধারণ কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সেখানে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের আমন্ত্রণে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা ১৬ ফেব্রুয়ারি রামপাল কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। ওই দলে এই প্রতিবেদকও ছিলেন। কিন্তু সেখানেও একধরনের লুকোচুরি চোখে পড়ে। সেখানে প্রকল্প পরিচালকের ব্রিফিং, বাইরের কিছু ছবি তোলা আর কয়লার জেটি পরিদর্শন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থাপনা পরিদর্শন করার সুযোগ হয়নি নিরাপত্তার খোঁড়া অজুহাতে। ফলে কেন্দ্রটির ভেতরের প্রকৃত অবস্থা জানা যায়নি। অথচ দেশের অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে সবকিছুই দেখানো হয়।

তবে বাইরে থেকে যতটুকু দেখা গেছে, তাতে প্রায় পুরো প্রকল্প এলাকাজুড়ে অব্যবস্থাপনা আর অদক্ষতার ছাপ চোখে পড়েছে। চারদিকে ধুলা আর আবর্জনায় ভরা। কোনো কোনো যন্ত্রপাতিতে মাকড়সার জাল ও মরিচা ধরার চিহ্ন পাওয়া গেছে। কয়লা আমদানির জেটিতে যাওয়ার রাস্তা কাদাবালিতে একাকার। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জেটির নিচে বড় বড় ঘাস জন্মেছে। কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এখানে যাওয়ার পথে সারি সারি কয়েকটি পুকুর চোখে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এগুলো সব ‘অ্যাশ পন্ড’, যেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই রাখা হবে। তবে গর্ত করে রাখা ছাড়া আর কোনো কাজই হয়নি। এ ছাড়া কেন্দ্রে ব্যবহৃত পানি ব্যবস্থাপনার পাইপলাইনেও একাধিক ফাটল দেখা গেছে।

সাধারণত কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ রাখা বাধ্যতামূলক হলেও রামপালের প্রথম ইউনিট চালুর ২৩ দিনের মাথায় কয়লার অভাবে গত ১৪ জানুয়ারি বন্ধ হয়ে যায়। কয়লা আমদানির পর ১৬ ফেব্রয়ারি কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে।

বর্তমানে কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার কথা। গত ২২ ডিসেম্বর কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের শর্ত পূরণ করেছে এমন দাবি করেছেন বিআইএফপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ আকরাম উল্লাহ।

গতকাল রবিবার তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট প্রস্তুত। এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে।

অ্যাশ পন্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ছাই সরাসরি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে অ্যাশ পন্ডের কোনো দরকার হচ্ছে না। তবে জরুরি মুহূর্তের জন্যই এটা নির্মাণ করা হবে। নির্মাণকাজের অগ্রগতি কতটুকু তা জেনে জানাতে পারবেন বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রমতে, পরীক্ষামূলক উৎপাদনের পর বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার জন্য এত বেশি সময় নেওয়ার নজির নেই। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ লুকিয়ে আছে।

অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রটিতে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে পূর্ণ ক্ষমতায় দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের সক্ষমতা ৬৬০ মেগাওয়াট হলেও ৬০০ মেগাওয়াট লোডে বেশি সময় ধরে চললে বয়লারের টিউব ফেটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। তখন কেন্দ্রটি বন্ধ করতে হচ্ছে। এমন ঘটনা একাধিকবার সৃষ্টি হওয়ায় ভবিষ্যতে কেন্দ্রটির পূর্ণক্ষমতায় উৎপাদন করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এর আগে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় দেশের প্রথম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান। তাড়াহুড়া করে কেন্দ্রটি নির্মাণ করায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়ই বন্ধ থাকায় সেখানে আরও একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির পাশাপাশি কয়লা সংকটের কারণে এই কেন্দ্র থেকেও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। কত দিন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, তা নিয়েও কর্মকর্তাদের অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এসব কারণে বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রটি এখন পিডিবির জন্য অনেকটা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র আবার বোঝা হয়ে দাঁড়ায় কি না, তা নিয়েও রয়েছে একধরনের সংশয়। তবে এ সংশয় সত্যি হলে তা দীর্ঘদিন ভোগাবে দেশকে। কারণ উৎপাদন না করলেও ২৫ বছর পর্যন্ত ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বা কেন্দ্রভাড়া পরিশোধ করতে হবে সরকারকে। পাশাপাশি কেন্দ্রটি নির্মাণে যে ঋণ নেওয়া হয়েছে, সেটিও পরিশোধ করতে হবে।

দেশের অন্য সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রভাড়া দিতে হবে রামপালকে। কেন্দ্রটি উৎপাদন করুক বা না করুক প্রতি ইউনিটের জন্য কেন্দ্রভাড়া দিতে হবে ৪ দশমিক ৮৫ সেন্ট। দুটি ইউনিট একসঙ্গে চালু হলে বছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে কেন্দ্রভাড়া গুনতে হবে পিডিবিকে। অন্যদিকে দেশে তেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট গড়ে ৯০ পয়সা থেকে ১ টাকা।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় প্রকল্প পরিচালক সুভাস চন্দ্র পা-ে সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত। ডলারসংকটের কারণে সময়মতো কয়লা আমদানি করতে না পারায় কিছুদিন কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। এখন পাইপলাইনে যে কয়লা রয়েছে, তা দিয়ে একটি ইউনিট আগামী এপ্রিল পর্যন্ত চালানো যাবে। এর মধ্যে আমদানি জটিলতা না কাটলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। এতে কেন্দ্রটি চালু রাখা সম্ভব হবে না।

তবে একাধিক সূত্রমতে, বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে যে পরিমাণ কয়লা মজুদের দরকার, তা করা হয়নি। ডলারসংকট হয় এর পরে। ক্যাপাসিটি চার্জ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি না নিয়েই তড়িঘড়ি করে কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

আগামী জুন মাসে কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে প্রকল্প পরিচালক এমন তথ্য জানালেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রকৌশলী জানান, কাজের যে অগ্রগতি তাতে পুরো কাজ শেষ করতে চলতি বছর লেগে যাবে।

বয়লার টিউব ফেটে যাওয়ার বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘অনেক দিন আগে টিউব এনে সেগুলো গুদামে ফেলে রাখার কারণে সমস্যা হয়েছে। এ সমস্যা আর থাকবে না। ভারতের বিভিন্ন কেন্দ্রেও এ ধরনের সমস্যা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তবে পটুয়াখালীর পায়রায় উৎপাদনে থাকা একই সক্ষমতার কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ ধরনের কোনো সমস্যার কথা এখন পর্যন্ত শোনা যায়নি।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন যেকোনো কিছুর শুরুতেই অনেক ঝামেলা হয়। রামপালের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। অনেক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করেই এই কেন্দ্র নির্মাণের কারণে কিছুটা সময় বেশি লাগছে। যেটা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে হয়নি। তবে এটা সত্যি, আরও আগে রামপাল উৎপাদনে এলে গত বছর বিদ্যুৎ নিয়ে যে সংকট ছিল তা মোকাবিলায় সহায়ক হতো। সবকিছুর পরও কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শেষের দিকে। এখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেশের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিম্নমানের যন্ত্রপাতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। আশা করছি সমস্যার সমাধান হবে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে ভালো না হলেও অন্তত ওই কেন্দ্রের মতো গুণগত মান যেন রামপালে ঠিক থাকে, সে ব্যাপারে আমরা বলেছি।’

বুয়েটের অধ্যাপক ম তামিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শুনেছি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘কোয়ালিটি ফেইল’ করছে। সেখানে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যারা এই কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন, তারাই বলেছেন সবকিছু বিবেচনায় রামপাল আর পায়রার মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। রামপাল যারা নির্মাণ করছে, তারা কেন গুণগত মান ঠিক করল না, সেটা দেখার বিষয়। না হলে পুরো বিষয় ভেস্তে যাবে; যা দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি। কারণ নির্ধারিত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারলে অন্য কেন্দ্রের ক্ষেত্রে জরিমানা করা হয়। রামপালের ক্ষেত্রে এটা হলে সেই জরিমানা তো বাংলাদেশকেও দিতে হবে।

তিনি বলেন, সবার আগে এই কেন্দ্রের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ঠিকমতো কাজ শেষ হয়নি। এখানে সম্পূর্ণ অদক্ষতার পরিচয় ফুটে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে পরিবেশবাদীদের যে আন্দোলনের কথা বলা হচ্ছে, সেটা একটা অসিলামাত্র। সত্যিকার অর্থে তাদের বাধার কারণে এক দিনের জন্যও নির্মাণকাজ বন্ধ থাকেনি। এই কেন্দ্রের অনেক পরে পায়রা বিদ্যুতের কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের আগে মাত্র সাড়ে ৩ বছরে নির্মাণকাজ শেষ করেছে নির্ধারিত বাজেটের চেয়েও কম টাকায়। রামপালের ক্ষেত্রে কেন এমন হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা দরকার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত