আমি খুবই আশাবাদী মানুষ। আর তরুণ প্রজন্মই আমাকে সবচেয়ে আশাবাদী করে তোলে। আমার কাছে যারা গান শিখতে আসে বা আমি যখন বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করতে যাইথ তখন দেখি তো কউ পরিমাণ মানুষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুরাগী। কত বাবা-মা চান তার সন্তান রবীন্দ্রসংগীত শিখুক। তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও কউ দারুণ আগ্রহ দেখি। এমনকি এটা আমি বলতেই পারি, আমাদের দেশেই বরং এখনো রবীন্দ্রসংগীত চর্চার ধারাটা অনেকটাই খাঁটি রয়েছে। আমরা যেভাবে গুরুদের কাছে গান শিখেছি এবং পরিবেশন করে যাচ্ছি, আমাদের কাছ থেকেও এখনকার প্রজন্ম সেভাবেই শিখছে ও পরিবেশন করছে। তারা রবীন্দ্রনাথের গানের আবেদনের নিজস্বতা বজায় রেখেই কাজ করছে। বরং পশ্চিমবঙ্গে নানাভাবে নানা রকম এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে রবীন্দ্রসংগীত নষ্ট হয়ে গেছে। বাংলাদেশের শিল্পীরা এখনো রবীন্দ্রসংগীতের মূলধারাটা বজায় রেখেছে, মাটির গন্ধটা আছে। নিজের কথা নাই বা বলি। কিন্তু সন্জীদা খাতুন, ওয়াহিদুল হক, আব্দুল আহাদ, কলিম শরাফী, নিলোৎপল সাধ্য, পাপিয়া সরোয়ার, মিতা হক- উনাদের কথা বলতেই হয়। আমরা যার যার জায়গা থেকে কাজ করেছি রবীন্দ্রসংগীতকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসতে।

তবে একটা শঙ্কার জায়গা হলো, মুসলমান সমাজ এখন গান বাজনাকে আগের মতো ভালো চোখে দেখছে না। এমন তো হওয়ার কথা না। সাম্প্রাদয়িক চেতনার বাড়-বাড়ন্তের কারণেই এসব হচ্ছে। আর এ থেকে উত্তরণের জন্য মাঠ পর্যায়ে শিল্পচর্চাকে আরও প্রসারিত করার বিকল্প নেই।
অনুলিখন: মাসিদ রণ
