সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি (ওএমএস) কার্ডের মাধ্যমে করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলমান এ কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনায় কিছু ঘাটতি সরকারের নজরে আসায় তিনি এ নির্দেশ দেন। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তিনি। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর ওই নির্দেশসহ বৈঠকের সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।
কার্ড কীভাবে ও কাদের দেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ঠিক করবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। আর কার্ড না হওয়া পর্যন্ত এখনকার মতোই ওএমএসের কার্যক্রম চলবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এখন এক কোটি পরিবারকে টিসিবির কার্ডের মাধ্যমে যেভাবে সহযোগিতা করা হয়, ওএমএসও সেভাবে কার্ডের মাধ্যমে দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। যেন লোকজনকে অহেতুক দীর্ঘমেয়াদি ভিড় করতে না হয়। তাদের মধ্যে যেন শৃঙ্খলা থাকে।
অব্যবস্থাপনার ধরন বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব হোসেন বলেন, নানারকম অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কথা হয়তো প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেছে, তার নজরে এসেছে। এজন্য উনি এ নির্দেশনা দিয়েছেন।
বর্তমানে ঢাকাসহ সারা দেশে ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের কাছে চাল ও আটা বিক্রি করছে খাদ্য অধিদপ্তর। একজন সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল ও ৩ কেজি আটা কিনতে পারেন। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা ও আটা প্রতি কেজি ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ওএমএস পণ্যের ক্রেতারা বলছেন, তারা প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা দরে সর্বোচ্চ ৫ কেজি কিনতে পারেন। তাতে তাদের ব্যয় হয় ১৫০ টাকা। অথচ বাজারে একই পরিমাণ চালের দাম ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা। তারচেয়েও বেশি সাশ্রয় হচ্ছে আটায়। কারণ, প্রতি কেজি ওএমএসের আটার দাম ২৪ টাকা, যা বাজারে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। ফলে ওএমএসের ৫ কেজি আটায় তাদের সাশ্রয় হয় ২০০ টাকারও বেশি।
খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, কম দামের কারণে কলোবাজারে সরকারের আটা ও চাল চলে যাচ্ছে। মূলত এ অনিয়ম বন্ধে সরকার কার্ডের মাধ্যমে ওএমএস দিতে চাচ্ছে।
বর্তমান ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে ওএমএসের চাল ও আটার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষের অপেক্ষা নতুন নয়। এসব ডিলারের দোকানের সামনে বিশৃঙ্খলাও এখন নিত্যদিনের চিত্র। বিশেষত বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এসব পণ্যের চাহিদা তুঙ্গে।
আরও ৪৪ দেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব পাবেন বাংলাদেশিরা
আরও ৪৪টি দেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব সুবিধা পাবেন বাংলাদেশিরা। এজন্য এসব দেশ যুক্ত করে বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের দ্বৈত নাগরিকত্ব সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে এসআরও জারির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এর আগে ৫৭টি দেশে বাংলাদেশিদের দ্বৈত নাগরিকত্বের সুবিধা ছিল। নতুন করে ৪৪টি দেশ যুক্ত হওয়ায় এখন মোট ১০১টি দেশের নাগরিকত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশিরা দ্বৈত নাগরিকত্ব সুবিধা পাবেন বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
আগে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, ব্রুনাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ মোট ৫৭টি দেশ ছিল।
নতুন ৪৪টি দেশের মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশের ১৯টি দেশ রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে- মিসর, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, আলজেরিয়া, সুদান, মরক্কো, ঘানা, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তিউনিসিয়া, সিয়েরা লিয়ন, লিবিয়া, কঙ্গো, লাইবেরিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, ইরিত্রিয়া, গাম্বিয়া, বতসোয়ানা ও মরিশাস।
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ১২টি দেশের মধ্যে রয়েছে- ব্রাজিল, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, আর্জেন্টিনা, পেরু, ইকুয়েডর, চিলি, উরুগুয়ে ও গায়ানা।
ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ১২টি দেশের মধ্যে রয়েছে- কিউবা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, হাইতি, বাহামা, জ্যামাইকা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, ডমিনিকা, সেন্ট লুসিয়া, বার্বাডোস, সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইন, গ্রেনাডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস এবং ওশেনিয়া মহাদেশের ফিজিসহ মোট ৪৪টি দেশকে এসআরওতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভিসির মেয়াদ বাড়াতে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন
উপচার্যের মেয়াদ বাড়াতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) আইন, ২০২৩’ এর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মান্ত্রিসভা।
অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য বা কোষাধক্ষ্যের মেয়াদ হয় চার বছর, কিন্তু বর্তমান আইনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব পদের মেয়াদ তিন বছর আছে। সংশোধনীতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চার বছর করার জন্য প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে।
এখানে আগে ৩০ জন সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। এখন ৩১ জন করা হয়েছে। আগে স্পিকারের মাধ্যমে তিনজন সংসদ সদস্য সিন্ডিকেটে ছিলেন। এখন এর মধ্যে একজন নারী সংসদ সদস্য থাকবেন। সিন্ডিকেটে আগে শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি থাকলেও এখন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজিও থাকবেন ।
কাতারে কাজ করবেন ১ হাজার ১২৯ জন সেনা সদস্য
কুয়েতের পর এবার কাতারে কাজ করবেন বাংলাদেশের ১ হাজার ১২৯ জন সেনা সদস্য। এ সংক্রান্ত একটি চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এবং কুয়েতের মধ্যে একটি চুক্তি রয়েছে এবং তার আওতায় ৫ হাজারের বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য সেখানে কাজ করেন। কাতারের সঙ্গেও একটি চুক্তি স্বাক্ষরের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। যার আওতায় ১ হাজার ১২৯ জন আর্মড ফোর্সের সদস্য ওখানে লিয়নে বা ডেপুটেশনে কাজ করবেন।
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে নতুন চিন্তাধারার প্রয়োগ ঘটান : ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে নবীন বিসিএস ক্যাডারদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমি চাই নতুন কর্মকর্তারা দেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করতে তাদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। গতকাল প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা মিলনায়তনে বিসিএস কর্মকর্তাদের ৭৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
গত ১৪ বছরে দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নবীনদের পরিবর্তনের ধারা বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের একমাত্র লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করে দেশবাসীর জন্য উন্নত ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা। নতুন বিসিএস ক্যাডারদের ২০৪১ সালের সৈনিক হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি স্মার্ট দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আজকের অফিসাররাই হবে আগামী দিনের সৈনিক।
তিনি বলেন, সরকারের প্রণীত ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের কাজ করতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য এটির বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
ওই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টর মো. আশরাফ উদ্দিন।
মিঠামইন যাচ্ছেন আজ :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাওর উপজেলা মিঠামইন সফরে যাবেন। তার এ ঐতিহাসিক সফরকে কেন্দ্র করে পুরো হাওর এলাকার মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফর উপলক্ষে অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত হাওরবাসী।
প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।
দিনব্যাপী সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল হামিদ সেনানিবাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইন সদরের কামালপুরে রাষ্ট্রপতির পৈতৃক বাড়িতে সপরিবারে তিনি আতিথ্য গ্রহণ করবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে আপ্যায়ন করা হবে হাওরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ২০টি রেসিপি ও অষ্টগ্রামের বিখ্যাত পনির দিয়ে।
এরপর বিকেল ৩টায় স্থানীয় হেলিপ্যাড মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
