উৎসে কর কমানোর দাবি পোশাক ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৩, ১২:৫২ এএম

আগামী পাঁচ বছরের জন্য তৈরি পোশাক রপ্তানির বিপরীতে প্রযোজ্য উৎসে কর হার ১ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ০.৫০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় রাজস্ব ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানান তারা।

বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে শুল্ক বিভাগের সদস্য মো. মাসুদ সাদেক, ভ্যাট নীতির সদস্য জাকিয়া সুলতানা ও আয়কর নীতির সদস্য সামস উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আলোচনায় অংশ নেয় তৈরি পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

রপ্তানির বিপরীতে প্রদত্ত নগদ সহায়তার ওপর আয়কর হার ১০ শতাংশ থেকে শূন্য শতাংশ করা, গ্রিন কারখানার জন্য করপোরেট কর হার ১০ শতাংশ করারও প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, জ¦ালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিসহ উৎপাদন কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। বিদেশি ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ কমিয়ে দিয়েছে। যে সব রপ্তানি আদেশ ইতিমধ্যে দিয়েছে তাও ধীরগতিতে শিপমেন্টের জন্য বলছে এবং অনেক ক্রেতা রপ্তানি আদেশ বাতিল করছে।

বর্তমান এই সংকটকালীন সময়ে দেশের প্রধানতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নীতি সহায়তা প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফারুক হাসান বলেন, যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যার প্রভাব পড়েছে আমাদের পোশাক শিল্পে। এই অবস্থায় যদি উৎসে কর পূর্বের ন্যায় ০.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয় তাহলে বর্তমানে বিরাজমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে সহায়ক হবে। এবং তা আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর রাখা হোক।

সংগঠনটির অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে প্রতিবছর সর্বোচ্চ পাঁচ পিস ডামি পোশাক বিনাশুল্কে আমদানির অনুমোদন দেওয়া, রপ্তানিকে প্রতিযোগী করতে পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট ১২ ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাট অব্যাহতি, এইচ এস কোড জটিলতা নিরসন, ওয়াশিং-ড্রাই মেশিন ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র আমদানিতে শুল্ক ছাড়।

অন্যদিকে বিকেএমইএর অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানসমূহকে শূন্য ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া, সোলার প্যানেল ও ইটিপি স্থাপনে আমদানি করা রাসায়নিকের শুল্ক ও মূসক শূন্য শতাংশ করা।

বিটিএমএর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছেরিসাইকেলড ফাইবার, ম্যানমেইড ফাইবারসহ সব প্রকারের আমদানি পর্যায়ে যাবতীয় শুল্ক, মূসক ব্যতীত আমদানির সুযোগ, সকল প্রকার পাওয়ার লুমে উৎপাদিত কৃত্রিম আশের সুতার তৈরি ফেব্রিকসের ওপর মূসক অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছে।

এসব বিষয়ে ফারুক হাসান বলেন, যে সমস্যাগুলো আমরা ফেস করছি সেগুলো থেকে আমরা ওভার কাম করব।

তিনি বলেন, আমরা বাজার বৈচিত্রকরণে কাজ করছি। সরকার যে সুযোগটা আমাদের দিয়েছে তা হলোনতুন বাজারে গেলে একটা ইনসেন্টিভ পাওয়া যায়, সেই হিসেবে নতুন মার্কেটে আমরা কিন্তু গ্রো করছি।

তিনি বলেন, জানুয়ারি মাসে গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম তিনবার বেড়েছে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব কারণে আমাদের কস্ট অব প্রোডাকশন বেড়ে গেছে।

রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর কমানোর দাবি জানিয়ে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, উৎসে করের টাকাটা সমন্বয় করা যাবে না বলে আইনে উল্লেখ আছে। আপনি যদি অতিরিক্ত টাকা নেন তাহলে এটা সমন্বয় করার সুযোগ আমাদের মৌলিক অধিকার। এই বিষয়টা বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, মাসে মাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করছি এখন। কিন্তু এটার সঙ্গে আমি একমত না, আমি কেনো রিটার্ন দাখিল করব। দাখিল করা যখন শুরু হলো তখন ২৫ রকমের ফাইল খাতাপত্র নিয়ে ভ্যাট অফিসে হাজির হতে হয়। এরপর কতগুলো ফর্মের কথা বলা হয়। সেগুলো আমরা কখনো দেখিনি। এটা খতিয়ে দেখবেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা এনবিআরের আরেকটা ডিপার্টমেন্ট বন্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেখানে আমরা প্রতি বছর হিসাব-নিকাশ জমা দেই, তাহলে আরেকটা ডিপার্টমেন্টে কেন আমাদের দিতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের এসব কথা বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প ও এর সহযোগী শিল্পকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য যতটুকু করার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করবে। ভ্যাট অনলাইন, বন্ড অটোমেশন, এসাইকুড ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সার্ভিস আরও ভালো হচ্ছে। তবে কিছু কিছু জিনিস আমাদের মেনে নিতে হয়। যেমন কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি এইগুলো আমাদের মেনে নিতে হয়। রেভিনিউ আমাদের দরকার, ট্যাক্স জিডিপি বাড়ানোও দরকার। সেটাও দেখতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত